Aaj India Desk, কলকাতা : শ্রীরামপুরে সভায় যাওয়ার পথে তৃণমূলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা। শনিবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা রাস্তা অবরোধ করলেও পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয়।
কুণালের গাড়ি ঘিরে হামলার অভিযোগ
তৃণমূলের দাবি, শ্রীরামপুরের সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ার কাছে জিটি রোডে কুণাল ঘোষের গাড়ি ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয়। গাড়িতে পাথর, ডিম ও অন্যান্য বস্তু ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ভাঙচুরে গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাঁচের টুকরোয় কুণাল আহত হয়েছেন বলে তৃণমূলের দাবি। পরে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে ভবানী ভবনের দিকে যান বলে জানা যায়।
পুলিশের বিরুদ্ধে সরব মমতা
ঘটনার খবর পেয়ে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “আমাদের বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়ি পুরো ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর সারা শরীরে কাচ ঢুকেছে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে ভাল লক্ষণ, না খারাপ লক্ষণ তা আপনারাই বলুন। এমন ঘটনা তো আফ্রিকার কোনো দেশেও হয় না।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “পুলিশের কোনও চিহ্ন নেই। পুলিশের সাহায্যেই এই ঘটনা হচ্ছে।” এরপরই তাঁর মন্তব্য, “পুলিশের ইউনিফর্ম ছেড়ে বিজেপির পতাকা হাতে নিন।” মমতার (Mamata Banerjee) অভিযোগ, বিরোধী দলের সভা-মিছিলের অনুমতি পেতে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ভোটে জিতে থাকলে বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন? তিনি দাবি করেন, উত্তরপাড়া ও জিটি রোডে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। একইসঙ্গে নজরদারির অভিযোগও তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট শ্রীরামপুর কোর্ট চত্বরে বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সর্বাধিক ১,০০০ জনের সভার অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সমস্ত বাধার মধ্যেও সভায় নিজে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মমতা। এখন নজর আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভা কীভাবে সম্পন্ন হয় এবং হামলার ঘটনায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকে।


