Aaj India Desk,জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে (Jalpaiguri District Court) স্ত্রী হত্যার মামলায় বড়সড় সাজা ঘোষণা। ধূপগুড়ির (Dhupguri) এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত শ্রীকান্ত রায়কে (Srikanta Roy) মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত। নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে এটিই সম্ভবত প্রথম মৃত্যুদণ্ডের সাজা বলে জানা যাচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকারি ভাবে কোনও পৃথক ঘোষণা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
২৪ জানুয়ারির সেই ঘটনা
চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ধূপগুড়িতে ঘটে যায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ, স্ত্রী সোমা রায় (Soma Roy)-এর সঙ্গে অন্য এক যুবকের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ওই যুবকের সঙ্গেই স্ত্রীকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীকান্ত।
কিন্তু অভিযোগ, বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরও স্ত্রীর প্রতি তাঁর ক্ষোভ কমেনি। কয়েক দিন পর আচমকাই ওই যুবকের বাড়িতে পৌঁছে যান তিনি। সেখানেই প্রাক্তন স্ত্রী সোমার উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আঘাতের জেরে তাঁর মৃত্যু হয়।
রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে থানায়
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে শ্রীকান্ত নিজেই থানার দিকে রওনা দেন । অভিযোগ, হাতে ছিল রক্তমাখা অস্ত্র। পরে ধূপগুড়ি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একাধিক তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা এগোয়।
ন’মাসেই বিচার শেষ
জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে প্রায় ন’মাস ধরে মামলার শুনানি চলে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক বিপ্লব রায় (Biplab Roy)। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শ্রীকান্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
সরকারি আইনজীবী হায়দার আলী (Haider Ali) জানিয়েছেন, হত্যার নৃশংসতার কারণেই আদালত সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানা দিতে না পারলে আরও তিন মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দুই সন্তানের দায়িত্বও নির্দিষ্ট
এই মামলায় শ্রীকান্তের দুই নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সন্তানদের ২১ বছর বয়স পর্যন্ত দেখভালের দায়িত্ব জেলা প্রশাসন (District Administration) এবং ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি (District Legal Services Authority)-কে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
একই মামলায় দ্রুত তদন্তের পর মাত্র ন’মাসের মধ্যে বিচার শেষ করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


