Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: রাজনীতির মঞ্চে এবার যেন নতুন সমীকরণ। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে ‘ভোট চুরি’ প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক তত্ত্ব সামনে আনলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর অভিযোগ, ভোটের ভিতটাই যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে সেই ভোটে নির্বাচিত সাংসদদের তৈরি আইন এবং বদলে দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির বৈধতাও প্রশ্নের মুখে। আর এই গোটা ‘চেইন রিঅ্যাকশন’-এর কেন্দ্রে বসিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করলেন তিনি।
‘ভোট চুরি’ থেকে ‘আইন চুরি’
রাহুলের (Rahul Gandhi) বক্তব্য, “ভোট চুরি থেকে আইন চুরি হয়।” তাঁর যুক্তি, ভোট থেকেই সংবিধান শক্তি পায়, সংবিধান থেকে আইন এবং আইন থেকেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির কাঠামো তৈরি হয়। ফলে ভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার প্রভাব গোটা সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।
রাহুল বলেন, ভোট চুরি হয়ে থাকলে সেই ভোটে নির্বাচিত সাংসদরা সংসদে যে আইন বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন এনেছেন, সেগুলিও প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাঁর কথায়, এটি শুধু ভোটের উপর আঘাত নয়, বরং দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর উপরও আঘাত।
জ্ঞানেশকে সরাসরি নিশানা
বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করেন রাহুল (Rahul Gandhi)। তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের সাম্প্রতিক আপত্তির প্রসঙ্গ তুলে জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের স্বার্থে ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার কথা ভাবতে বলেন। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ‘ভোট চুরি’র নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে যাঁরা জড়িত, তাঁদের তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে। রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং বিভিন্ন বিধানসভা নির্বাচন ‘রিগড’ হয়েছিল।
উল্লেখ্য, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের চাপ আরও বেড়েছে। কংগ্রেসের পাশাপাশি একাধিক বিরোধী দল তাঁর অপসারণ এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে। তার মাঝেই রাহুল গান্ধীর এমন আহ্বান যেন আগুনে ঘি! এবার কি করবেন জ্ঞানেশ কুমার সেটাই দেখার।


