Aaj India Desk, কলকাতা: নন্দীগ্রামকে (Nandigram) ঘিরে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের (Milan Pradhan) হয়ে এবার সরাসরি প্রচারে নামছেন তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান (Arpita Pradhan)। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম বাজার থেকেই তাঁর প্রচার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্পিতা।
অর্পিতার কথায়, রাজনীতির সঙ্গে তাঁর বিশেষ পরিচয় নেই। কিন্তু ভূমি উচ্ছেদ আন্দোলনের মামলায় তাঁর স্বামীকে জেলে পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই সময় শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari) সেখানে ছিলেন। তাহলে শুধু তাঁর স্বামীকেই কেন জেলে যেতে হল, সেই প্রশ্নই তুলেছেন অর্পিতা। পরিস্থিতির কারণে তাঁকে এবং তাঁর মেয়েকেও এখন আন্দোলনে নামতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রচারে নামার আগে আরও একটি আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন অর্পিতা। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধি বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধির সঙ্গে এখনও তাঁর ফোনে কথা হয়নি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে নন্দীগ্রামে প্রচারে আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে সিপিআইএমকেও প্রচারে আসার আহ্বান জানিয়েছেন অর্পিতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও এখনও তাঁর সরাসরি কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অর্পিতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাহুল গান্ধিকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন অর্পিতা। তাঁর দাবি, শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ অনেকেই টাকা-পয়সার কারণে দল বদল করলেও তিনি কোনও পক্ষেই যাননি। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নন্দীগ্রামের ওসিকে সরানোর দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপও দাবি করেছেন তিনি।
শুভঙ্কর সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, নন্দীগ্রামে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আঁতাত করে কেউ নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এদিন নন্দীগ্রাম বাজারের কাছে সাধারণ মানুষের কাছে পাশে থাকার আবেদন জানান অর্পিতা প্রধান। কংগ্রেসের আরও দাবি, নন্দীগ্রামের ওসির পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসারকেও সরাতে হবে। কংগ্রেস নেতা প্রকাশ যোশীর অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নতুন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে মিলন প্রধানকে। তাঁর দাবি, এই ঘটনা সরকারের ‘অহংকারের’ প্রকাশ।


