Aaj India Desk , কলকাতা : মুকুন্দপুরে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষের এক দিন পর রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মুকুন্দপুরের ঘটনায় তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরীর (Upasana Chowdhury) উপর হামলার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তায় অভিষেকের দাবি, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও হিংসার লাইসেন্স হতে পারে না।
অভিষেক তাঁর পোস্টের শুরুতেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা শুধু দুই পক্ষের সংঘাত হিসেবে দেখলে হবে না; আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকার দিকটিও দেখতে হবে।
উপাসনাকে ঘিরে অভিযোগ
অভিষেক তাঁর পোস্টে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন উপাসনা চৌধুরীর (Upasana Chowdhury) কথা। তৃণমূলের অভিযোগ, মুকুন্দপুরের সংঘর্ষের সময় মহিলা কর্মীদেরও আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। উপাসনা অভিযোগ করেছেন, তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে এবং তাঁর গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিষেকের দাবি, উপাসনার বাড়িতেও পাথর ছোড়া হয়েছিল এবং সেই সময় তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন। তবে এই দাবিগুলির সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়।
থানার সামনেই আক্রান্ত প্রাক্তন IPS অফিসার ?
প্রাক্তন IPS অফিসার হুমায়ুন কবীরের উপর হামলার অভিযোগকেও সামনে এনেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, পুলিশের থানার কাছেই হুমায়ুনকে আক্রান্ত হতে হয়েছে। হুমায়ুন কবীর নিজেও অভিযোগ করেছেন, পূর্ব যাদবপুর থানার বাইরে তাঁকে বিজেপি কর্মীরা মারধর করেন, তাঁর চশমা ভেঙে দেওয়া হয় এবং পার্স ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
‘রাজনীতিতে হিংসার জায়গা নেই’
অভিষেকের বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার সঙ্গে শারীরিক হামলাকে মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর মতে, রাজনৈতিক কর্মীরা যাতে নিরাপদে মিছিল করতে পারেন এবং পরিবারগুলি যাতে নিজেদের বাড়িতে নিরাপদ বোধ করেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি হিংসার ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘নির্বাচিত নীরবতা’ বা রাজনৈতিক সুরক্ষার অভিযোগ যেন না ওঠে, সেই বার্তাও দিয়েছেন।
মুকুন্দপুরের ঘটনা নতুন করে রাজ্যের রাজনৈতিক হিংসা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে সংঘর্ষ, হামলা বা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ বারবার সামনে এলে তা উদ্বেগের বিষয়। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের সামনে বড় দায়িত্ব।


