কলকাতা: কলকাতার রাস্তার নাম (Kolkata Road Name Change) নিয়ে কি শুরু হতে চলেছে বড় পরিবর্তনের অধ্যায়? শহরের নামকরণ বিতর্কে নতুন মোড় এনে কলকাতা পুরসভায় স্থায়ী অফিসে প্রথমবার বসলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ, অর্থাৎ কার্তিক মহারাজ। আর সেখান থেকেই এল বড় ঘোষণা! এবার সাধারণ মানুষও সরাসরি রাস্তা, সেতু বা জনবহুল স্থানের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।
১০০-র বেশি আবেদন, বাবার নামেও রাস্তার দাবি!
কার্তিক মহারাজ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ১০০-র বেশি প্রস্তাব কমিটির হাতে এসেছে। তালিকায় যেমন রয়েছেন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তেমনই রয়েছে একেবারে ব্যক্তিগত আবেদনও। এমনকি কেউ নিজের বাবার নামেও রাস্তার নামকরণের (Kolkata Road Name Change) আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আবেদন জমা পড়লেই কোনও নাম অনুমোদিত হচ্ছে না। প্রতিটি প্রস্তাবই ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক গুরুত্ব এবং এলাকার সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হবে।
লেনিন, কার্ল মার্কস, হো চি মিন—চর্চার কেন্দ্রে তিন সরণি
রাস্তার নাম পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হতেই শহরের রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন লেনিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি ও হো চি মিন সরণি নিয়ে। বিভিন্ন সদস্যের তরফে বিকল্প নামের প্রস্তাব এসেছে বলে জানা গেলেও, এগুলি এখনও শুধুই প্রস্তাব, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
একইভাবে বিশ্ব বাংলা সরণি-র নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। চৈতন্য মহাপ্রভুর নামে নামকরণের প্রস্তাব (Kolkata Road Name Change) নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে, তবে সরকারিভাবে কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
সপ্তাহে একদিন বৈঠক, ডাক পড়তে পারে ইতিহাসবিদদের
রাজ্য সরকারের তৈরি ১০ সদস্যের এই কমিটি সপ্তাহে একদিন বৈঠকে বসবে। প্রয়োজন হলে ইতিহাসবিদ, হেরিটেজ বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতও নেওয়া হবে। পর্যালোচনার পর কমিটির সুপারিশ যাবে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য।
পুরসভায় প্রথমবার স্থায়ী দফতর
এই দায়িত্ব পালনের জন্য কলকাতা পুরসভার প্রথম তলায় কার্তিক মহারাজের জন্য নির্দিষ্ট অফিস বরাদ্দ হয়েছে। তাঁর দাবি, আগের কমিটিগুলির স্থায়ী দফতর ছিল না; এবার সেই পরিকাঠামো তৈরি হওয়ায় নিয়মিত ও সংগঠিতভাবে নামকরণ সংক্রান্ত কাজ এগোবে।


