34 C
Kolkata
Monday, September 21, 2026
spot_img

প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত, তারপরই বিস্ফোরক মন্তব্য! হুমায়ুনকে নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

Aaj India Desk, কলকাতা : রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে প্রার্থী গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। অন্যদিকে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এবার সেই প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভোটের পর হুমায়ুনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ-পর্যবেক্ষকদের পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত রেজিনগরের নির্দল প্রার্থী সইফুল ইসলাম (Saiful Islam)-এর গ্রেফতারিকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ের একটি সংঘর্ষের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই হুমায়ুন ঘোষণা করেন, তিনি আর উপনির্বাচনের প্রচারে অংশ নেবেন না। প্রতীক পাওয়ার পর প্রথম রবিবারেই যখন প্রচারে জোর দেওয়ার কথা ছিল, ঠিক তখনই তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় আলোচনা।

তবে প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানাতে গিয়ে হুমায়ুনের একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। ভোট লুঠ প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রাণহানি হলেও তা হতে পারে এমন বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান শুভেন্দু।

রবিবার রাতে উত্তর দমদম বিধানসভার মহাজাতি নগরে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানে প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তপন শিকদার (Tapan Sikdar)-এর আবক্ষ মূর্তি এবং বিধায়ক কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানেই হুমায়ুনের মন্তব্য প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রকাশ্যে এ ধরনের হুমকির সুরে মন্তব্য করা হলে নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ-পর্যবেক্ষকদের বিষয়টি দেখা উচিত। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এদিকে উপনির্বাচনের ফল নিয়েও নিজের অবস্থান জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ৬ অক্টোবর ভোটের দিন সন্ধ্যাতেই তিনি ফলাফলের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগেও নিজের আসনসংখ্যার পূর্বাভাস দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

রেজিনগরে তৃণমূলের প্রচার নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে ‘স্টার ক্যাম্পেনার’ করার প্রসঙ্গে তিনি তৃণমূলের নির্বাচনী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অন্যদিকে রবিউল আলম চৌধুরী (Rabiul Alam Chowdhury)-কে নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর রবিউলের রাজনৈতিক অবস্থান বড় ধাক্কার মুখে পড়বে এবং তাঁর জামানতও বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত রেজিনগর উপনির্বাচনে কার পক্ষে জনমত যায়, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ভোটগণনার পরেই। তার আগে হুমায়ুনের প্রচার বয়কট এবং তাঁকে ঘিরে শুভেন্দুর মন্তব্যে রেজিনগরের রাজনৈতিক লড়াই যে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন