Aaj India Desk, কলকাতা: ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ ততই ঘন হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সেই ঘোষণার পরেই গ্রেফতার হলেন মিলন। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুললেন মদন মিত্র। একইসঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকার প্রশংসাও করলেন তিনি।
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক পুরনো মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম পর্বের সঙ্গে যুক্ত মামলাতেও তাঁর নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশি পদক্ষেপের পর আদালত তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।
এই ঘটনাতেই মদনের প্রশ্ন, এত বছর ধরে যদি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে আগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? তাঁর বক্তব্য, ২০০৭ থেকে ২০২৬ দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আগের সরকারের আমলে পদক্ষেপ হয়নি। এখন নির্বাচন সামনে আসতেই সেই পুরনো মামলায় গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে।
মদনের দাবি, যে কাজ আগে হওয়ার কথা ছিল, তা এখন শুভেন্দু অধিকারীর সরকার করছে। তাঁর বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ থাকলেও শুভেন্দুর প্রশংসাই শোনা যায়। মদনের ভাষায়, আগের সরকারের ‘অসম্পূর্ণ পাপের ঘড়া’ পরিষ্কার করার দায়িত্ব এখন শুভেন্দুর কাঁধে এসে পড়েছে।
তবে এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য, পুরনো মামলায় থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার আগে প্রার্থী প্রত্যাহার, কংগ্রেসকে তৃণমূলের সমর্থন এবং তারপর কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারি পরপর ঘটনায় ভোটের ময়দানে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আর সেই আবহেই মদন মিত্রের মন্তব্য রাজনৈতিক আলোচনায় আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


