Aaj India Desk, নয়াদিল্লি:ভোরের আলো ফোটার আগেই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ। সৌদি রাজধানী রিয়াধের আকাশে দেখা গেল ঘন কালো ধোঁয়া ।বিমানবন্দরের আশপাশে আগুনের লেলিহান শিখা। আর এই ঘটনার পরই সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলার দায় স্বীকার করল ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে নিশানা করা হয়েছে।
শনিবার ভোরে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রে আগুন লাগার খবর সামনে আসে। সেখানে থাকা একটি তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর বক্তব্য, রিয়াধ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইয়ানবু, তইফ, বায়েশ এবং ফারাসান-সহ কয়েকটি এলাকায় হামলার চেষ্টাও প্রতিহত করার দাবি করেছে তারা। এখনও পর্যন্ত প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
অন্যদিকে হুথি মুখপাত্র ইহিয়া সারী দাবি করেছেন, সৌদির বিরুদ্ধে দু’টি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি অভিযানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইয়ানবু শহরের আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো।
কিন্তু কেন আচমকা সৌদিকে নিশানা করল হুথিরা? সংগঠনটির দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি বাহিনীর হামলার জবাবেই এই অভিযান। এমনকি ইয়েমেনের মারিবে সৌদির একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে হুথিরা এবং তার ধ্বংসাবশেষের ভিডিও প্রকাশ করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফে সেই দাবি নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের সংঘাত, সৌদি-সমর্থিত সরকার এবং হুথিদের দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই রিয়াধে এই হামলার ঘটনা সামনে এল। ফলে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


