Aaj India Desk, মালদহ: বন্যার জেরে এখনও জলমগ্ন মালদহের মানিকচকের ভূতনির (Bhutni) বিস্তীর্ণ এলাকা। কয়েকদিন ধরে সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণের (Rescue and Relief Operations) কাজ চালাচ্ছে রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার ভূতনিতে পৌঁছন রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)-সহ একটি প্রতিনিধি দল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) নির্দেশে সেখানে যান মন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অজয় পোদ্দার, সুমনা সরকার, কৌশিক চৌধুরী, সাংসদ খগেন মুর্মু, বিধায়ক এবং মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর। ছিলেন জেলা প্রশাসনের আরও আধিকারিকরা।
নৌকায় করে ভূতনির বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। পাশাপাশি একাধিক ত্রাণশিবিরেও যান তাঁরা। বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনা হয়। ত্রাণ ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে কি না, উদ্ধারকাজে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না—সেসবও খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
গঙ্গার জল বাড়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের কারণে ভূতনির পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জলমগ্ন এলাকায় নৌকায় করে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্গত মানুষের কাছে নৌকার মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিস্তারিত হিসাবও প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেখানে ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের বন্যার সময় ত্রাণসামগ্রী, নৌকা, জেনারেটর এবং অন্যান্য পরিষেবা দেওয়ার তুলনামূলক হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, চলতি বছরে আগের দু’বছরের তুলনায় ত্রাণ এবং অন্যান্য পরিষেবার পরিমাণ অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। তবে তাতেও ভূতনির মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।
শুধু ত্রাণ দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি বছর বর্ষায় গঙ্গার জল বাড়লেই বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যায় পড়তে হয় ভূতনির মানুষকে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে। বর্ষা শেষ হয়ে জলস্তর স্বাভাবিক হলে ভূতনির সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটাতে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নদীভাঙন রুখতে রাজ্য ও কেন্দ্র যৌথভাবে বড় পরিসরে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য, ভবিষ্যতে ভূতনির মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা যাতে বারবার বন্যা ও ভাঙনের কবলে না পড়ে।


