Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের জেরে এই সিদ্ধান্ত। দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলেছে কমিশন। এই পরিস্থিতিতে ঘটনাকে ‘দম্ভের পরিণতি’ বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
‘দলকে একজোট রাখতে পারেননি’
শুক্রবার প্রকাশ্যে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বিজেপির সরাসরি কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর দাবি, কমিশন নিয়ম মেনেই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য শুনে পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “উনি নিজের দলকে একজোট রাখতে পারেননি। দল যে দু-ভাগ, তিন-ভাগ, চার-ভাগ হয়েছে। তার দায় তো ওঁরই! এতে আমাদের বিজেপির সরাসরি কোনও ভূমিকা নেই।”
ভগবানের অভিশাপে পতনের তত্ত্ব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করে তৃণমূল নেতৃত্বকেও নিশানা করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “অতি দর্পে হত লঙ্কা, অতি মানে চ কৌরবাঃ”, দম্ভ যারই হবে, সেই দম্ভের চূর্ণ ভগবান করে দেবেন। তিনি বলেন, “শ্রীরামচন্দ্র তো আছেন? ভগবান পুরুষোত্তম রামচন্দ্র মহারাজের অভিশাপেই আজ সব ধ্বংস হয়ে গেছে!”শুভেন্দুর দাবি, গণনার রাতেই হলদিয়ায় তিনি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বরের অন্তর্বর্তী নির্দেশে নির্বাচন কমিশন জানায়, বিবদমান দুই গোষ্ঠীর কেউই আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে বিকল্প নামের তিনটি করে পছন্দ এবং কমিশনের তালিকাভুক্ত অব্যবহৃত প্রতীকের তিনটি করে পছন্দ জানাতে বলা হয়। কমিশনের বক্তব্য, দলের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও বিশদ নির্ধারণ প্রয়োজন। উপনির্বাচনের সময়সীমার কথা মাথায় রেখে আপাতত দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


