Aaj India Desk, কলকাতা: প্রতীক এক, কিন্তু দাবি দুই পক্ষের। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ নিয়ে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, এবার তার পরবর্তী অধ্যায় লেখা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের (ECI) দরজায়। বৃহস্পতিবার ফের কমিশনের সামনে মুখোমুখি হল কালীঘাটপন্থী শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন নব তৃণমূল শিবির। দীর্ঘ বৈঠক শেষে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অধরা।
আগে ঋতব্রত শিবির, তারপর কালীঘাট
বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের প্রতিনিধিরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, আখরুজ্জামান, অরূপ রায় এবং আইনজীবীরা। কমিশনের তরফে চাওয়া নথি ও নিজেদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তাঁরা।
এরপর কালীঘাটপন্থী শিবিরের পালা। দলের হয়ে কমিশনের সামনে হাজির হন মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থাৎ, ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে বিবাদে দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করেছে। কিন্তু বৈঠক শেষ হতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
‘কোন অধিকারে টিকিট?’ প্রশ্ন কল্যাণের
কমিশন থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত শিবিরের দাবিকে একাধিক প্রশ্নে বিঁধেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর বক্তব্য, কমিশন যে বিষয়গুলি জানতে চেয়েছিল, সেগুলির উত্তর কালীঘাট শিবিরের তরফে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে।
এরপরই ঋতব্রত শিবিরের অন্তর্বর্তী নির্দেশ চাওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। কল্যাণের যুক্তি, যদি দাবি করা হয় ২০২৫ সালেই দলের চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাহলে সেই পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্বাচনে সংশ্লিষ্টরা কীভাবে তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করলেন?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কল্যাণের আরও বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দলের প্রতীক ও পরিচয়ের ওপর নতুন করে দাবি তোলার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, দলের প্রতীক তৈরির সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের কোনও ভূমিকা ছিল না।
২২ জুনের অধিবেশন ঘিরেও প্রশ্ন
বিতর্কের আরেকটি কেন্দ্রবিন্দু দলের সাংগঠনিক নির্বাচন। কল্যাণের দাবি, তৃণমূলের সংবিধান অনুযায়ী সাংগঠনিক নির্বাচন ধাপে ধাপে হওয়ার কথা বুথ থেকে অঞ্চল, অঞ্চল থেকে ব্লক, তারপর জেলা এবং রাজ্য স্তর। এরপর জাতীয় স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কথা।
ঋতব্রত শিবির ২২ জুনের অধিবেশনের কথা তুলে ধরলেও কল্যাণের প্রশ্ন, তার আগে নিচের স্তরগুলিতে প্রয়োজনীয় নির্বাচন আদৌ হয়েছিল কি না। নির্বাচিত সাংসদদের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের দাবি, কমিশন যে নথি চেয়েছিল তা জমা দেওয়া হয়েছে। নিজেদের বক্তব্যও তাঁরা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। তাই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক তাঁদের হাতেই আসবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
এখন প্রশ্ন একটাই নথি, সংবিধান এবং দুই পক্ষের যুক্তি খতিয়ে দেখে কমিশন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়? ‘জোড়াফুল’ কি কালীঘাটের হাতেই থাকবে, নাকি নতুন কোনও মোড় নেবে প্রতীক-বিতর্ক? আপাতত উত্তর আটকে কমিশনের সিদ্ধান্তে।


