29 C
Kolkata
Tuesday, September 15, 2026
spot_img

বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে হাইকোর্টে টানাপোড়েন, ১০ দিনের মধ্যে রাজ্যকে দিতে হবে হলফনামা

Aaj India Desk, কলকাতা: প্রথমে নাবালিকা নিখোঁজ। তারপর পুকুর থেকে উদ্ধার হল বস্তাবন্দি দেহ। তদন্তে গ্রেফতার একের পর এক অভিযুক্ত। আর তার পরেই তদন্তের মাঝখানে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু এক অভিযুক্তের। বারুইপুরের এই ঘটনাক্রম ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। এবার সেই এনকাউন্টার মামলাতেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথি, তথ্য এবং CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

নিখোঁজ নাবালিকা, তারপর পুকুর থেকে দেহ

গত জুলাইয়ে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিখোঁজ হয়ে যায় এক নাবালিকা। পরিবারের তরফে খোঁজ শুরু হয়। তদন্তে নামে পুলিশ। কিছুদিন পর এলাকারই একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। অভিযোগ ওঠে, ধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে।

ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর। তদন্তে নামে পুলিশ এবং গ্রেফতার করা হয় প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার, আনন্দ সর্দার ও কবীর মোল্লাকে। প্রথমে গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রভাসকে। পুলিশি জেরায় তার দেখানো জায়গা থেকেই নাবালিকার দেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়। পরে গ্রেফতার হন আনন্দ, দিবাকর ও কবীর।

হঠাৎ বদলে গেল তদন্তের মোড়

এরপর আসে ৭ জুলাই রাত। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিল পুলিশ। সেই সময়ই পরিস্থিতি আচমকা বদলে যায়। পুলিশের অভিযোগ, প্রভাস তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং গুলি চালান।

পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালানো হয়। বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল সার্ভিস রিভলভার দিয়ে প্রভাসকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে পুলিশের বক্তব্য। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় প্রভাসের।

কিন্তু এই এনকাউন্টার নিয়েই উঠতে শুরু করে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় রাজ্য পুলিশের CID-কে।

এবার হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ

এনকাউন্টার নিয়ে মামলার শুনানিতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ঘটনার সমস্ত নথি, তথ্য এবং CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। বারুইপুর পুলিশ সুপারের রিপোর্ট মামলাকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে রাজ্য। তাই রিপোর্টটি হলফনামা আকারে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে ১০ দিনের মধ্যে হলফনামা দিতে বলেছে। রাজ্যের বক্তব্য পাওয়ার পর মামলাকারীদের কোনও জবাব থাকলে তা জমা দিতে পারবেন। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফের মামলার শুনানি হবে।

রাজ্যের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য ইতিমধ্যেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। ফলে এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে হলফনামায় রাজ্য কী জানায় এবং এনকাউন্টার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পরবর্তী আইনি গতিপথ কোন দিকে যায়।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন