Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল (TMC)ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যাওয়া সাংসদরা কি এবার বিজেপিতে (BJP) যোগ দিতে চলেছেন? এই জল্পনাকে কার্যত উড়িয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি ঘিরে তৈরি হওয়া এই জল্পনায় শমীকের স্পষ্ট বার্তা, বিজেপিতে ইচ্ছে হলেই যখন-তখন যোগ দেওয়া যায় না। এমনকি জগদীশের দাবিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “তাঁরা যে বিজেপিতে যোগদান করতে চাইছেন, সেটা হয়তো মঙ্গল গ্রহের বিজেপি!”
সম্প্রতি জগদীশ বসুনিয়া দাবি করেছিলেন, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যাওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জন দুর্গাপুজোর আগে অথবা পুজোর পরেই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান বিজেপিতে সরাসরি যোগ না দিয়ে এনসিপিআই-তেই থাকবেন এবং বাইরে থেকে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন।
শুধু তাই নয়, জগদীশের দাবি ছিল, দলত্যাগবিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পরামর্শে ওই সাংসদরা প্রথমে এনসিপিআই তৈরি করেছিলেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বঙ্গ বিজেপির অন্দরে শুরু হয় আলোচনা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এই সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
কারণ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই করা দলের নিচুতলার কর্মীদের অনেকেরই ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিজ্ঞতা এখনও তাজা। সেই পরিস্থিতিতে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের বড় সংখ্যায় বিজেপিতে নেওয়া হলে কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।
এই আবহেই মুখ খুললেন শমীক ভট্টাচার্য। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা ও অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বুঝিয়ে দেন, সেই অতীত সহজে ভুলে যাওয়ার নয়। তাঁর বক্তব্য, শুধু ইচ্ছা প্রকাশ করলেই কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে—এমনটা ভাবার কারণ নেই।
শমীকের এই মন্তব্যে আপাতত স্পষ্ট, এনসিপিআই সাংসদদের বিজেপিতে যোগদানের যে দাবি জগদীশ বসুনিয়া করেছেন, তা নিয়ে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। বরং দলের পুরনো কর্মীদের আবেগ এবং প্রতিক্রিয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


