Aaj India Desk, কলকাতা: দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের (BRICS Summit) সরকারি নৈশভোজে কোনও আমিষ পদ না থাকা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে ভারতীয় খাদ্যাভ্যাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে বিতর্ক। এর মধ্যেই মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মাছ-মাংস খাওয়া বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও পছন্দের সঙ্গে যুক্ত। ব্রিকসের এই নৈশভোজের সমালোচনার মাঝে এমন বক্তব্য খানিকটা সাফাইয়ের সুর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ব্রিকসের নৈশভোজে শুধু নিরামিষ পদ
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দু’দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit) রবিবার শেষ হয়েছে। শনিবার রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য আয়োজিত সরকারি নৈশভোজে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নিরামিষ পদ পরিবেশন করা হয়। কোনও নন-ভেজ পদ মেনুতে ছিল না। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে ভারতীয় খাদ্যসংস্কৃতির সম্পূর্ণ বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে নাকি ভারতের একটি নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।
সাফাই দিলেন বিজেপি মন্ত্রী
এই বিতর্কের মধ্যেই বাংলার খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরম্পরার সঙ্গে উত্তর ভারতের রীতির পার্থক্য রয়েছে। পুরাণ ও আঞ্চলিক উপাসনার ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলায় মাছের সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতির একটি দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। নিজের খাদ্যাভ্যাস প্রসঙ্গে জগন্নাথ বলেন, “আমি ভেজ, না নন-ভেজ জিজ্ঞাসা করলে বলব, আমি অ্যান্টি ভেজ।”
ভারত কি শুধু নিরামিষাশী?
ব্রিকসের (BRICS Summit) নৈশভোজকে কেন্দ্র করে বিতর্কে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্যের বিলুপ্তি। ভারতকে সাধারণভাবে নিরামিষপ্রধান দেশ হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিভিন্ন জাতীয় সমীক্ষায় বিপুল সংখ্যক ভারতীয়ের মাছ-মাংস খাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এমনকি সর্বশেষ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ৭০.৬ শতাংশ মহিলা এবং ৮৩.৪ শতাংশ পুরুষ মাছ-মাংস খান। অর্থাৎ ভারতীয় সমাজে নিরামিষ ও আমিষ দুই ধরনের খাদ্যাভ্যাসই ব্যাপকভাবে প্রচলিত। তা সত্ত্বেও বার বার আন্তর্জাতিক মঞ্চে কেবল নিরামিষ খাদ্য পরিবেশন করে কেনো ভারতের এই বিপুল খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্য নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
ভারতের সংস্কৃতি শুধু একটি অঞ্চল বা একটি খাদ্যাভ্যাসে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলার মাছ-ভাত থেকে দক্ষিণ ভারতের নানা আমিষ-নিরামিষ রন্ধনপ্রথা অর্থাৎ খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্রই ভারতীয় সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফলে ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্বে সেই বৈচিত্র্য কেনো প্রতিফলিত হচ্ছে না, তা নিয়েই এখন বাড়ছে প্রশ্ন।


