Aaj India Desk, হুগলি: খাবার নিয়ে আর আপোস নয়। পুজোর মণ্ডপের আশপাশে খাবারের স্টলে অস্বাস্থ্যকর বা খারাপ খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠলেই এবার সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর (Food Complaint Helpline) ও ইমেল চালু করলো হুগলি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের দাবি, ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে।
২৭০ জায়গায় অভিযান, ৯২.৯৬ শতাংশে অনিয়ম
হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত জেলার ২৭০টি জায়গায় খাদ্য সুরক্ষা অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৫১টি জায়গায় বিধি না মানার অভিযোগ মিলেছে। শতাংশের হিসেবে যা ৯২.৯৬ শতাংশ। জেলাশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ১৯টি ইউনিটের ব্যবসা বন্ধ করা হয়েছে। আরও ২৮টি ইউনিটের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তিনজনের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে।
অভিযানে মোট ১৩ লক্ষ ৮২ হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৩৮ টাকার খাবার নষ্ট করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। খুরশিদ আলি কাদরি জানিয়েছেন, খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে অভিযান এখনই থামছে না। আগামী দিনেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চলবে।
পুজোর স্টল নিয়ে অভিযোগ
পুজোর সময় শহর ও জেলার বিভিন্ন মণ্ডপের আশপাশে অস্থায়ী খাবারের স্টল বসে। সেই স্টলগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, খাবারের গুণমান ঠিক রয়েছে কি না তা নজরে রাখবে প্রশাসন। জেলাশাসক বলেন, “পুজোর সময় প্রচুর খাবারের স্টল বসে। সেখানে যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় সেটা দেখার পাশাপাশি খারাপ খাবার বিক্রি হলে সাধারণ মানুষ অভিযোগও জানাতে পারবেন।”
কোন নম্বরে জানানো যাবে অভিযোগ?
খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলে হুগলি জেলা প্রশাসনের ঘোষিত ১৮০০১১২১০০ নম্বরে ফোন করা যাবে। পাশাপাশি foodsafetywb@gmail.com ইমেলেও অভিযোগ জানানো যাবে। (Food Complaint Helpline)
সম্প্রতি কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান হয়েছে। কোথাও ভেজাল খাবারের অভিযোগ, আবার কোথাও পচা মাংস উদ্ধারের মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। একাধিক ক্ষেত্রে লাইসেন্সের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুজোর আগে হুগলি জেলা প্রশাসনের এই হেল্পলাইন (Food Complaint Helpline) চালু হওয়ার ফলে পুজোর সময়ে সাধারণ মানুষ কিছুটা উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে হুগলি জেলা প্রশাসন।


