32 C
Kolkata
Sunday, September 13, 2026
spot_img

‘দলনেতা হওয়ার জন্য সই জাল করেছে, এত হ্যাংলা’-এবার কাকে কাঠগড়ায় তুললেন মদন?

Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূলের (TMC) অন্দরের কোন্দল ফের প্রকাশ্যে। আর এবার দলের ভাঙনের জন্য সরাসরি এক বর্ষীয়ান নেতাকেই দায়ী করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, ওই নেতার কারণেই তৃণমূল আজ দুই শিবিরে বিভক্ত। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য বিধায়কদের সই জাল (Forged Signature) করারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

মদনের নিশানায় রয়েছেন বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের পুরনো প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেন মদন মিত্র। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার জন্য বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছিল। এমনকি ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

মদন মিত্রের প্রশ্ন, এত কিছু হওয়ার পরেও কেন বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? মমতার উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁকে তিনি শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, “কেন সহ্য করলেন?” তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের মধ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার পিছনের ঘটনাগুলিও সামনে আসা দরকার।

এরপরই নাম না করে এক বর্ষীয়ান নেতাকে আক্রমণ করেন মদন। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ির কাছেই ওই নেতার বাড়ি। ১৯৭২ সালে বার্লিন যাওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। মদনের দাবি, বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য অনেক বিধায়ককে সামনে রেখে তাঁদের সই করানো হয়েছিল এবং সেই সই নিয়েই পরে প্রশ্ন ওঠে। এই প্রসঙ্গেই কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন করেন, “এত হ্যাংলা?”

শুধু অভিযোগ তুলেই থামেননি কামারহাটির বিধায়ক। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত হলে আসল ঘটনা সামনে চলে আসবে। মদন আরও দাবি করেন, ওই বর্ষীয়ান নেতা তৃণমূলে একাধিকবার সুযোগ পেয়েছেন। এমনকি নমিনেশন পাওয়ার বিষয় নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। দু’জনের মধ্যে অতীতের বাকযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে মদন বলেন, তাঁকে ‘সার্কাসের ক্লাউন’ বলা হয়েছিল। পাল্টা জবাবে তিনিও কটাক্ষ করেছিলেন।

তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মদনের আরও অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা করার জন্য ওই নেতাকে নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে বলা হয়েছিল যে বিধায়কদের সবাই সই করেছেন। কিন্তু পরে সেই সই নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। মদনের দাবি, এই ঘটনাই পরবর্তী সময়ে দলের মধ্যে বড় বিভাজনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই সই বিতর্ক?

ভোটের ফল প্রকাশের পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে একটি রেজোলিউশন জমা পড়ে। সেই রেজোলিউশনে তৃণমূলের ৭০ জন বিধায়কের সই থাকার কথা বলা হয়। কিন্তু পরে কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, ওই সইগুলির সঙ্গে বিধায়কদের পুরনো স্বাক্ষরের মিল নেই। এরপরই বিষয়টি নিয়ে দলের ভিতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান-সহ একাধিক নেতার সঙ্গে কালীঘাটের দূরত্বও বাড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সই জাল হওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিধানসভায় অভিযোগ করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপান সাহা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপান সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর একের পর এক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের মধ্যে তৈরি হয় বড়সড় বিভাজন। দল ভাগ হয়ে যায় দুই শিবিরে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন