Aaj India Desk, পশ্চিম মেদিনীপুর: শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় বড় পদক্ষেপ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে (Sumit Roy) আট দিনের সিআইডি (CID) হেফাজতে পাঠাল মেদিনীপুর জেলা আদালত। শুক্রবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভবানীভবন থেকে তাঁকে মেদিনীপুরে নিয়ে যায় CID-এর বিশেষ দল।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সুমিত রায়ের আইনি রক্ষাকবচ তুলে নেয়। সেই নির্দেশের পরই বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করে CID। গ্রেফতারির পর থেকেই দফায় দফায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, টাকা লেনদেন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হলেও সুমিতের উত্তরে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। আগের জিজ্ঞাসাবাদেও তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি CID-এর।
এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, শালবনি জমি মামলার পিছনে আসলে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করা। সুমিত রায় কার নির্দেশে কাজ করতেন, সেই নির্দেশ কোথা থেকে আসত এবং আর্থিক লেনদেনে তাঁর ভূমিকা ঠিক কী ছিল—এই সব বিষয়ই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
CID-এর দাবি, একাধিকবার সমন পাঠিয়ে সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও সব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যায়নি। তাঁর আগাম জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি ফের আত্মগোপন করতে পারেন, এমন আশঙ্কা ছিল তদন্তকারীদের। তাই আইনি রক্ষাকবচ সরার পর দ্রুত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
সুমিত রায়ের গ্রেফতারি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই নিয়ে মুখ খোলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি সুমিত রায়কে নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন এবং তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘এক নম্বর কালেক্টর’ বলে দাবি করেন।
শুধু শালবনি জমি মামলাই নয়, এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও সুমিত রায়কে তলব করেছিল ED। এছাড়াও তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত একটি আর্থিক মামলার তদন্তেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে ED সূত্রে দাবি। আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ওই মামলায় এখনও ED তাঁর মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। আপাতত আট দিনের CID হেফাজতে সুমিত রায়। এই সময় তাঁকে জেরা করে তদন্তকারীরা কী তথ্য পান, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।


