Aaj India Desk, কলকাতা : ইলামবাজারে চার বিঘা জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে এ বার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হলেন পদ্মশ্রী লোকশিল্পী পূর্ণদাস বাউল (Purnadas Baul) এবং তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁদের দাবি, জমি ফেরানোর বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে জমি ফেরতের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন দিব্যেন্দু। পাশাপাশি, ওই জমিতে বাউল সংস্কৃতি ও শিক্ষার প্রসারে একটি অ্যাকাডেমি তৈরির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর পূর্ণদাস বাউল (Purnadas Baul) বলেন, “উনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।” তাঁর ছেলে দিব্যেন্দুর দাবি, জমি ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বীরভূমের জেলাশাসকের সঙ্গেও কথা বলেছেন।দিব্যেন্দু বলেন, “উনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে জমিটা ফেরত পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। এ নিয়ে উনি জেলাশাসকের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। কী ভাবে ফেরতের ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়ে কথা বলেছেন। আর উনি বলেছেন, উনিই একটা অ্যাকাডেমি করে দেবেন ওখানে।”
পরিবারের অভিযোগ, ইলামবাজার থানার কামারপাড়া মৌজায় রাস্তার ধারে তাঁদের প্রায় চার বিঘা জমি রয়েছে। পূর্ণদাস বাউলের (Purnadas Baul) দাবি, ১৯৭৭ সালে ওই জমি কেনা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে জমিটি দখল হয়ে যায় বলে অভিযোগ।
জমি ফেরতের দাবিতে এর আগেও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন জানিয়েছিলেন পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর পরিবার। গত অগস্ট মাসে তাঁরা বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনের সঙ্গেও দেখা করেন। তখন জেলাশাসক জানিয়েছিলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁরা এসেছিলেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের দাবি, জমি মাপজোকের কাজও শুরু হয়েছিল। তবে সেই প্রক্রিয়া আর এগোয়নি এবং জমিও ফেরত পাননি তাঁরা।
পূর্ণদাস বাউলের পরিবারের বক্তব্য, জমিটি ফিরে পেলে সেখানে বাউল সংস্কৃতি ও বাউলদের শিক্ষার প্রসারে কাজ করতে চান তাঁরা। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। দিব্যেন্দুর কথায়, জমি দখল হয়ে থাকায় এতদিন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে পরিবার।
জমি দখলের ঘটনায় বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছে পূর্ণদাস বাউলের পরিবার। তাঁদের দাবি, জমি নিয়ে একাধিকবার তাঁর কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও সমাধান হয়নি।
শুধু ইলামবাজারের জমি নয়, দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ায় তাঁদের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে উচ্ছেদের অভিযোগও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, বলপ্রয়োগ করে বাড়িটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দুই ঘটনারই প্রশাসনিক প্রতিকার চেয়ে ‘জনতার দরবারে’ আবেদন করেছেন পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর পরিবার। এখন মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং জমি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।


