Aaj India Desk, কলকাতা: পুজোর মরশুম শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই কলকাতার হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির (Hotel and Guest House) বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা (KMC)। নিউমার্কেট এলাকার সাম্প্রতিক ঘটনার (Newmarket Fire Case) পর শহরের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসের ট্রেড লাইসেন্স এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিশেষ সমীক্ষা শুরু করেছিল পুরসভা। সেই সমীক্ষায় উঠে এসেছে একাধিক অনিয়মের ছবি।
পুরসভা সূত্রে খবর, গত সোমবার পর্যন্ত কলকাতার মোট ৯৬০টি গেস্ট হাউসে পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯১৯টিকেই ‘ক্লোজ নোটিস’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত ওই গেস্ট হাউসগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজোর আগে পুরসভার এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে বাইরে থেকে কলকাতায় আসা পর্যটকদের নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, সমীক্ষায় ধরা পড়া অধিকাংশ গেস্ট হাউসেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর সমস্যা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা ঠিকমতো নেই। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু হোটেল বৈধ ট্রেড লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই চলছিল বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে কোনও অগ্নিকাণ্ড বা বড় দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে।
তবে পুজোর মরশুমের কথা মাথায় রেখে হোটেলগুলিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পথেই পুরসভা আটকে থাকছে না। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে নিজেদের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করলে ফের চালু করার অনুমতি মিলতে পারে।
এদিকে নিউমার্কেটের সাম্প্রতিক ঘটনার পর বেশ কয়েকটি হোটেলকে শো-কজ করেছিল পুরসভা। সেই নোটিসের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় ইতিমধ্যেই ১১টি হোটেলের বিরুদ্ধে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই হোটেলগুলির দরজাতেও নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিকদের হোটেল খালি করে বের করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়সীমাও দেওয়া হয়েছিল।
শুধু হোটেল নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও চলছে প্রশাসনের নজরদারি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে খাদ্য সুরক্ষা দফতরও বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে কলকাতায় পুরসভার এই কড়া পদক্ষেপ হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।


