কলকাতা: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই আরও তীব্র হল প্রতীকের (TMC symbol) লড়াই। মমতাপন্থী তৃণমূল হোক বা ঋতব্রতপন্থী শিবির, দু’পক্ষই দাবি করছে, জোড়াফুল প্রতীক তাদেরই। কিন্তু শেষ হাসি হাসবে কে? সেই উত্তর আপাতত আটকে নির্বাচন কমিশনের হাতে।
দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, প্রতীক এবং দলের ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এবার সেই সংঘাত সরাসরি পৌঁছে গেল ভোটের ময়দানে। সোমবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই দুই শিবিরের লড়াই যেন নতুন মাত্রা পেল।
কারণ, আসন্ন উপনির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত মমতাপন্থী এবং ঋতব্রতপন্থী দুই তৃণমূলই। আর সেখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রার্থী দাঁড় করানো তো হল, কিন্তু জোড়াফুল প্রতীকটা (TMC symbol) পাবে কে?
আইন অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দল ভেঙে একাধিক গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে গেলে কোন অংশ দলের স্বীকৃত নাম এবং সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহারের অধিকারী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে এখন দুই শিবিরের নজর একেবারে কমিশনের দিকে।
ঋতব্রতপন্থী শিবিরের দাবি, দলের যাবতীয় নথি কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতীক (TMC symbol) পাওয়ার বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী। তাঁদের তরফে বিধায়ক সন্দীপন সাহার দাবি, জোড়াফুল প্রতীকেই তাঁদের প্রার্থী লড়বেন এবং ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে মমতাপন্থী শিবিরও একচুল নড়তে নারাজ। তাদের যুক্তি, তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি দল এবং জোড়াফুল প্রতীকও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মমতাপন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও সেই দাবিই স্পষ্ট—এই দল মমতা তৈরি করেছেন, তাঁর নেতৃত্বেই দল তিনবার ক্ষমতায় এসেছে।
অর্থাৎ, মুখোমুখি দুই শিবিরের দাবি “জোড়াফুল আমাদের!”
রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন এখন পৌঁছে গিয়েছে একেবারে প্রতীকের (TMC symbol) লড়াইয়ে। বিধানসভায় ইতিমধ্যেই ঋতব্রতপন্থী শিবির বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার উপনির্বাচনের ময়দানে জোড়াফুল কার হাতে থাকে, তা হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
নন্দীগ্রাম, যে আসন বাংলার রাজনীতিতে বরাবরই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর সেই আসনেই এবার লড়াই শুধু ভোটের নয়, ‘আসল তৃণমূল’ কে? তারও। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি দল ও প্রতীকের দাবি, অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থীদের ‘আসল তৃণমূল’-এর দাবি। দু’পক্ষই প্রস্তুত। প্রার্থী বাছাইয়ের তোড়জোড়ও শুরু।
কিন্তু জোড়াফুলের চাবিকাঠি এখন অন্য কারও হাতে!
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটযুদ্ধের আগে তাই নজর প্রার্থী তালিকায় যতটা, তার চেয়েও বেশি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে। শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে জোড়াফুল? আর কে বাধ্য হবে অন্য প্রতীক (TMC symbol) নিয়ে ভোটে নামতে? সেই উত্তরেই নির্ধারিত হতে পারে বাংলার রাজনীতির অন্যতম বড় প্রতীক-লড়াইয়ের পরবর্তী অধ্যায়।


