Aaj India Desk, কলকাতা : চোখের চিকিৎসার জন্য তিন সপ্তাহের সফরে আমেরিকায় পৌঁছেছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের অনুমতি ও নির্দিষ্ট শর্ত মেনে শুক্রবার ভারতীয় সময় দুপুরে আমেরিকায় পৌঁছন তিনি। বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স হাসপাতালের উইলমার আই ইনস্টিটিউটে তাঁর চিকিৎসা হওয়ার কথা। যদিও এরই মধ্যে তাঁর অনুপস্থিতিতে কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে হামলা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন সামনে এসেছে। আমেরিকা বসেই এই বিষয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে তৃনমূলের সাংসদকে। (Abhishek Banerjee USA Visit)
আদালতের শর্ত মেনেই বিদেশযাত্রা
চোখের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়ার অনুমতি চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন অভিষেক। সেখানে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করেন তিনি। আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি দেয়। আদালত জানায়, নিজের পছন্দের জায়গায় চিকিৎসা করানোর অধিকার একজন ব্যক্তির রয়েছে। তবে সফর নিয়ে একাধিক শর্তও দেওয়া হয়। (Abhishek Banerjee USA Visit)
তিন সপ্তাহের মধ্যেই ফিরতে হবে
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তিন সপ্তাহের মধ্যে কলকাতায় ফেরার কথা অভিষেকের। সফরের ভ্রমণসূচি, থাকার ঠিকানা, হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিবরণ এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হয়েছে। বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ব্যবহারের শর্তও রয়েছে। এই সমস্ত শর্ত মেনেই বুধবার রাতে কলকাতা থেকে দিল্লি পাড়ি দেন অভিষেক। তারপর সেখান থেকেই আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। শুক্রবার ভারতীয় সময় দুপুরে আমেরিকায় পৌঁছন বলে ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রে খবর। (Abhishek Banerjee USA Visit)
২০১৬-র দুর্ঘটনার পর থেকেই চোখে সমস্যা
২০১৬ সালে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে হুগলির সিঙ্গুরে গাড়ি দুর্ঘটনায় চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন অভিষেক। এরপর থেকে তাঁর চোখে একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকার বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি। এ বারও সেখানেই চিকিৎসা হওয়ার কথা।
২০২৪ সাল থেকে চোখে দৃশ্যমানতা সংক্রান্ত নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে জানা যায়। বড় কোনও লেখা পড়ার সময় একটি প্যারাগ্রাফের পর দৃষ্টি পরের প্যারাগ্রাফে চলে যাওয়ার মতো সমস্যা হচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। তবে গত বছরের পুজোর পর থেকে সেই সমস্যা ফের দেখা দেয়। সেই কারণেই এ বারও আমেরিকায় চিকিৎসার সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।


