Aaj lndia Desk, কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যে বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি, পুলিশের ভূমিকা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মত একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছেন তিনি।
তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
মমতার অভিযোগ, সরকারের সমালোচনা করে এমন সংবাদমাধ্যমগুলিকেও নানা ভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে। সংবাদমাধ্যমের দফতরে গিয়ে রাজনৈতিক রং লাগানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। সরকারি অনুষ্ঠানেও গেরুয়া রঙের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, সংবাদমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না পায়, তাহলে সাধারণ মানুষের কথা বলার জায়গাটিও সংকুচিত হয়ে যায়।
পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন মানুষদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকী নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা না থাকা সত্ত্বেও কিছু মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার উল্লেখ
ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগও তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, সেখানে ঢুকে কম্পিউটার ও বিভিন্ন নথি নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং কয়েকজন দলীয় কর্মীকে ভিতরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছেই শেক্সপিয়র সরণী থানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কীভাবে বিষয়টি সামলাল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির উপরও নানা ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছে এবং পুলিশ ফাঁড়ির অজুহাতে তাঁদের কার্যত আটকে রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিজেপিকে পাল্টা হুঁশিয়ারি
পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও মমতা কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, যাঁরা অন্যায় করছেন তাঁদের নাম নথিভুক্ত করে রাখা হচ্ছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এই বার্তা দিয়ে বিজেপিকেও ভবিষ্যতের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
দলবদল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সংগঠন দুর্বল করার অভিযোগ তুলেও বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, আজ যারা অন্যের দল ভাঙার চেষ্টা করছে, ভবিষ্যতে তাদের নিজেদের দলেও একই ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কেও কটাক্ষ করেন মমতা। ফটোশুট নিয়ে মন্তব্য করে রাজ্য সরকারের নেতৃত্বের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


