Aaj lndia Desk,কলকাতা: দুর্গাপুজোর আর বেশি দেরি নেই। পুজোর কেনাকাটা,ঘোরাঘুরি আর খাওয়াদাওয়ার প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই খাবারের মান নিয়ে সামনে এল ভয়ংকর ছবি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে উদ্ধার হচ্ছে পচা মাংস, বাসি খাবার, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী এবং খাবারে ব্যবহারের অনুপযুক্ত রং। ফলে পুজোর ভুরিভোজ নিয়ে আপাতত চিন্তিত খাদ্যপ্রেমীরা।
পুজোর আগেই শুরু কড়া নজরদারি
খাবারে ভেজাল ও অনিয়ম ঠেকাতে ১ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ’। নিউ মার্কেট এলাকা থেকে অভিযানের সূচনা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের পাতে যেন নিম্নমানের বা ক্ষতিকর খাবার না পৌঁছয়। সেই লক্ষ্যেই রেস্তরাঁ, ফুড কোর্ট, মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং ধাবাগুলিতে শুরু হয়েছে পরিদর্শন।
ট্যাংরার রেস্তরাঁয় প্রায় ৫০০ কেজি খাবার উদ্ধার
কলকাতার ট্যাংরা এলাকায় অভিযানে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়ায়। চায়না টাউনের পরিচিত ‘বিগ বস’ রেস্তরাঁয় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫০০ কেজি বাসি মুরগির মাংস ও চিংড়ি উদ্ধার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর কলকাতা পুরসভার তরফে রেস্তরাঁটি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাদুড়িয়াতেও উদ্ধার পচা মাংস
শুধু কলকাতা নয়, মফস্বলেও অভিযানে ধরা পড়েছে একই ধরনের অনিয়ম। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার একটি পরিচিত রেস্তরাঁ থেকে প্রায় ৪০ কেজি পচা মাংস উদ্ধার হয়েছে। খাবারের গুণমান এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। জিলিপিতে আবিরের রং! বিরিয়ানিতেও রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ
অভিযানে শুধু মাংস নয়, মিষ্টি এবং রান্না করা খাবার নিয়েও সামনে এসেছে নানা অভিযোগ। হুগলির আরামবাগের একটি মিষ্টির দোকানে জিলিপিতে আবিরের রং ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে শক্তিগড়ের ল্যাংচার দোকান এবং দিঘার কয়েকটি হোটেলে বিরিয়ানিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
ফিরছে কি ২০১৮-র সেই ভয়?
পচা মাংস উদ্ধারের খবর সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই মনে পড়ছে ২০১৮ সালের ভয়াবহ ভাগাড়-কাণ্ডের কথা। সেই ঘটনায় মৃত পশুর মাংস প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। মাংসের বাজার থেকে রেস্তরাঁ সব জায়গাতেই তখন তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।
এবারও পুজোর ঠিক আগে একাধিক জায়গা থেকে পচা মাংস ও অনুপযুক্ত খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় সেই পুরনো আতঙ্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে জোর দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত নজরদারি এবং কড়া পদক্ষেপের উপর। উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে খাবার খেতে পারেন, সেটাই এখন খাদ্য সুরক্ষা অভিযানের মূল লক্ষ্য।


