Aaj India Desk, কলকাতা: বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউ আলিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) সঙ্গে যুক্ত দুই সংস্থার অফিসে পৌঁছন তদন্তকারীরা। ‘হাকিম পলিমেকারস প্রাইভেট লিমিটেড’(Hakim Polymakers Private Limited) এবং ‘হাকিম কেমিক্যালস’(HakimChemicals)—এই দুই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিভিন্ন নথি ও আর্থিক সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করেন তাঁরা।
সংস্থাগুলির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক ফিরহাদ হাকিম। ‘হাকিম পলিমেকারস’ মূলত বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরি করে। তুলনামূলক কম দামে সেই পণ্য বাজারজাত করার কথাও সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ‘হাকিম কেমিক্যালস’-এ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পণ্য তৈরি করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে তদন্তকারীরা যখন সেখানে অভিযান চালান, তখন ফিরহাদ হাকিম বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য অফিসে ছিলেন না বলেই খবর।
কিন্তু হঠাৎ কেন এই অভিযান? সূত্রের খবর, এই দুই সংস্থার মাধ্যমে কোনও অনিয়ম করে বিপুল সম্পত্তি তৈরি বা কেনা হয়েছিল কি না, সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেনের মধ্যে কোনও দুর্নীতির যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকারি স্তরে আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পরই এই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থের অপচয় বা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশন গঠন করেছে রাজ্য সরকার। ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর, প্রকল্প এবং প্রশাসনিক পদে অনিয়মের অভিযোগ এই কমিশনের তদন্তের আওতায় রয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে এই কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। শিক্ষা, খাদ্য, গৃহায়ণ, পুরসভা, আমফান-পরবর্তী ত্রাণ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগও খতিয়ে দেখার ক্ষমতা রয়েছে এই কমিশনের।
বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এই তদন্তকারী দলে পুলিশ এবং প্রশাসনের অভিজ্ঞ আধিকারিকরাও রয়েছেন। ফলে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে যুক্ত দুই সংস্থায় একসঙ্গে এই অভিযান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে কী তথ্য সামনে আসে এবং পরবর্তী সময়ে কমিশন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।


