31 C
Kolkata
Wednesday, September 2, 2026
spot_img

ভেসে আসা অজানা মাছেই বিপদ? ডায়রিয়া-সহ রোগের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা বিহার প্রশাসনের

Aaj India Desk, পাটনা: নেপালের ভয়াবহ বন্যার (Nepal Flash Flood) প্রভাব এবার পড়ছে বিহারেও (Bihar)। নেপালের নদী থেকে নেমে আসা বন্যার জলের সঙ্গে বিহারের বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিলছে অচেনা ও অস্বাভাবিক দেখতে মাছের (Unknown fish)। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বিহার সরকার (Bihar Government)। আপাতত বন্যার জল থেকে ধরা অজানা মাছ ধরা, কেনা, বিক্রি করা কিংবা খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। নেপালের ত্রিশূলী নদীর জল গন্ডক ও কোশী নদী দিয়ে বিহারে প্রবেশ করছে। জলস্তর বৃদ্ধির পর বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু অপরিচিত প্রজাতির মাছ নজরে এসেছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এমন মাছ খাওয়ার পর কয়েকজন অসুস্থও হয়েছেন।

বিহার সরকারের বক্তব্য, বন্যার জলে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে মাছের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু ঢোকার সম্ভাবনা থাকে। দূষিত নর্দমার জল, মৃত প্রাণী, আবর্জনা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের সংস্পর্শে আসতে পারে মাছগুলি। ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ নানা ধরনের রোগজীবাণু থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই আপাতত বন্যার জল থেকে ধরা মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কোনও মাছ দেখতে অচেনা বা অস্বাভাবিক মনে হলে পরীক্ষা না করে সেটিকে খাবারযোগ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। মাছ খাওয়ার পর বমি, পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অস্বাভাবিক কোনও মাছ চোখে পড়লে স্থানীয় মৎস্য দফতর বা প্রশাসনকে খবর দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে। একইসঙ্গে অচেনা মাছ নিয়ে কোনও ধরনের গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

তবে বন্যার জলের সঙ্গে শুধু মাছই নয়, আরও নানা ধরনের বিপজ্জনক জিনিস ভেসে আসছে। ত্রিশূলী নদীর জল নেমে যাওয়ার সময় মাটি, পাথর, গাছের গুঁড়ি, মৃত মাছ, ভেঙে যাওয়া সেতুর অংশ, গাড়ি, গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন গৃহস্থালির সামগ্রীও ভেসে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। মানুষের ও পশুর দেহাবশেষ বন্যার জলে মিশে যাওয়ায় জলদূষণের আশঙ্কাও অনেকটাই বেড়েছে।

দূষিত বন্যার জল হাতপাম্প বা কুয়োর জলের সঙ্গে মিশে গেলে বিভিন্ন জলবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস ই-এর মতো রোগের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগও বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে নদীর জলস্তর পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের খাবার ও পানীয় জল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিহার প্রশাসন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন