Aaj lndia Desk, মুম্বাই: দোকান থেকে প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় তারিখ দেখে নেওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু প্যাকেটের গায়ে থাকা সেই তারিখ যদি আসল না হয়? নভি মুম্বাইয়ে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সন্ধান মিলেছে। অভিযোগ, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের খাবার সংগ্রহ করে সেগুলির প্যাকেট নতুন করে সাজানো হচ্ছিল। পুরনো তথ্য সরিয়ে বসানো হচ্ছিল নতুন তারিখ। এরপর সেই পণ্য বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
মহারাষ্ট্রের Food and Drug Administration বা FDA এবং নভি মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এই কারবারের সন্ধান পায়। পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসার পর ২৪ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত তুর্ভের TTC শিল্পাঞ্চলে ‘সাধনা এন্টারপ্রাইজ’-এর premises-এ তল্লাশি চালানো হয়। সেখানেই বিপুল পরিমাণ প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের মজুত দেখতে পান তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ঘোষিত মূল্য প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা।
প্যাকেটের ভিতরের তথ্যও বদলানোর অভিযোগ
তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে পুরনো প্যাকেটের উৎপাদন এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তথ্য মুছে ফেলা হত। এর জন্য ব্যবহার করা হত থিনার ও কালার রিমুভারের মতো রাসায়নিক। তারপর ইংকজেট প্রিন্টারের সাহায্যে নতুন তারিখ বসানো অথবা নতুন স্টিকার লাগানো হত।
শুধু তারিখ পরিবর্তন করেই থামেনি কারবার। প্যাকেটের Ingredients, Nutrition Information-সহ অন্যান্য লেবেলও বদলে দেওয়া হত বলে জানা গিয়েছে। ফলে ক্রেতার সামনে পণ্যটিকে নতুন এবং ব্যবহারযোগ্য হিসেবে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল।
উদ্ধার হয়েছে একাধিক পরিচিত ব্র্যান্ডের পণ্য
অভিযানে লেসের বিভিন্ন ফ্লেভারের চিপস, কুরকুরের একাধিক স্ন্যাক্স, ম্যাগির মশলা ও আটা নুডুলস পাওয়া গিয়েছে। একইসঙ্গে নরের মাশরুম স্যুপ ও রসোই কারি পেস্ট, হেলম্যানসের মেয়োনিজ এবং থামস আপ ও লিমকার মতো পানীয়ও উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তে দিল্লি ও নয়ডার কয়েকটি আমদানি-রফতানি সংস্থার যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। FDA জানিয়েছে, ১০টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত ৮,৪৪২ কার্টন পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর ঘোষিত মূল্য ৭৫,২১,২৬৯ টাকা। পাশাপাশি গুদাম থেকে আরও ৩০,৬০০ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ও লেবেলবিহীন খাবার উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলটি সিল করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং কোথায় কোথায় এই পণ্য পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


