নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় স্বস্তি ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সমর্থকদের। ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে মামলাগুলি দায়ের হয়েছিল, সেগুলি প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। শুধু মামলা প্রত্যাহারই নয়, ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়া ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে আর কোনও মামলা দায়ের করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাই। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা-সহ পাঁচ দফা দাবিতে সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পড়ুয়া ও সমর্থক দিল্লিতে হাজির হন। সংসদ অভিযান ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। এমনকী পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে।
এর পর দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে বহু বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। বিক্ষোভের পর কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে ককরোচ নেতৃত্ব। পরে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেন। যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ প্রত্যাহারের অন্যতম শর্ত হিসেবে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায় ককরোচ পার্টি। কেন্দ্র লিখিতভাবে সেই দাবি মেনে নিলেও অভিযোগ ওঠে, বহু পড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা থেকে যায়।
এই পরিস্থিতিতেই ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ফের বড়সড় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন অভিজিৎ দীপকেরা। মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি অসম, বিহার, মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশও মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে আটটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছিল।
শীর্ষ আদালত সেই আবেদন মেনে নিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভের জেরে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে। একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও মামলা করা যাবে না।
তবে রয়েছে একটি বড় ব্যতিক্রম। দিল্লি পুলিশ যে ২৮৭৩ জনকে অতীত অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যেতে পারবে পুলিশ। আর সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরই বড় ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির (CJP)। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মেগা প্রতিবাদ মিছিল প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, আদালতের নির্দেশের পরই বদলে গেল রাজপথের সমীকরণ। এখন নজর, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং ২৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলির ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়ায়।


