Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এবার সেই প্রশ্নেই কার্যত বিজেপি নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর মুখপত্র স্বস্তিকা। মানুষের আস্থা ধরে রাখা, দলের নিজস্ব রাজনৈতিক চরিত্র বজায় রাখা এবং সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সম্পাদকীয়তে। ক্ষমতায় আসাই শেষ কথা নয়, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে সেই আস্থাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠন।
‘আস্থায় চিড় ধরলেই বিপদ’
স্বস্তিকা-র সম্পাদকীয়তে দাবি, মানুষের আস্থার উপর ভর করেই বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। সেই আস্থায় সামান্য চিড় ধরলেও তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি মানুষ যদি মনে করতে শুরু করেন, দীর্ঘদিনের শাসক দলের সঙ্গে বিজেপিরও কোনও মৌলিক পার্থক্য নেই, তাহলে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলীকরণ ঠেকাবে কে?
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছিলেন, বিজেপিকে ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইককে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল। সিদ্ধান্তগুলি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্তরে হলেও, বিজেপির সাংগঠনিক চরিত্র নিয়ে বিতর্ক তাতে নতুন মাত্রা পায়।
শুধু দলবদল নয়, নিচুতলায় দুর্নীতির প্রবেশ নিয়েও বিজেপির অন্দরেই উদ্বেগ রয়েছে। পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি যাতে সংগঠনের ভিতরে জায়গা না করে নেয়, সেই বার্তাই এবার আরও জোরালোভাবে সামনে এল RSS-এর মুখপত্রে। স্বস্তিকা-র সম্পাদকীয়তে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক হিংসা, তোলাবাজি এবং অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে নতুন সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, শুধু সরকার নয়, রাজ্য বিজেপির সংগঠনেও কি এবার বড়সড় রদবদল আসছে? RSS-এর এই সতর্কবার্তার পর শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সর্বস্তরেই ‘শুদ্ধিকরণ’ এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। এখন দেখার, ‘তৃণমূলীকরণ’ ঠেকাতে বিজেপি নিজে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়।


