Aaj India Desk, কাঠমান্ডু : কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নিখোঁজ নিউ ইয়র্কের ৬৭ বছরের অমিতা আমিন। এ বছরই দ্বিতীয়বার এবং জীবনে সপ্তমবার কৈলাসযাত্রায় বেরিয়েছিলেন তিনি। অমিতার সঙ্গে থাকা ছোট একটি তীর্থযাত্রী দল এবং তিন নেপালি গাইডেরও এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। ভয়াবহ বন্যায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২,৪০০ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। ৭,০০০-এর বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। (Kailash Pilgrimage)
ঈশ্বরের ‘দরজায়’ পৌঁছনোর টান
নিউ ইয়র্ক থেকে চলতি মাসেই কৈলাসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অমিতা। স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু তীর্থযাত্রীর ছোট দলটির নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। তাঁর পুত্রবধূ অদিতি প্যাটেল জানান, ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস থেকেই বারবার কৈলাসে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল অমিতার। অমিতার দলের সঙ্গে থাকা সংস্থার কর্ণধার দীপক লামিচ্ছানে জানান, বুধবার সকালে দলটি সীমান্ত এলাকায় ছিল। শেষবার যোগাযোগের প্রায় এক ঘণ্টা পরেই হিমবাহের জল থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ওই অঞ্চলে আঘাত হানে। তারপর থেকেই দলের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। (Kailash Pilgrimage)
এ বছরেই দ্বিতীয় কৈলাসযাত্রা অমিতার
অমিতা এর আগেও ছ’বার কৈলাসযাত্রা করেছিলেন। চলতি বছরেই এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সফর। তাঁর ছেলে ধ্রুব আমিন জানান, ২০১০ সালে তিনিও মায়ের সঙ্গে কৈলাসে গিয়েছিলেন। ধ্রুবের কথায়, মায়ের সঙ্গে সেই যাত্রার অভিজ্ঞতায় তাঁর মনে হয়েছিল, “ঈশ্বর আমাদের দেখছেন।” তাঁর কাছে ঈশ্বরকে ভাবলে কৈলাস পর্বতের কথাই মনে পড়ে। (Kailash Pilgrimage)
অলৌকিকের অপেক্ষায় পরিবার
অমিতার ছেলে এখনও আশা করছেন, তাঁর মা এবং দলের অন্য সদস্যরা হয়তো চিনের দিকের সীমান্ত এলাকায় আটকে রয়েছেন। বন্যায় চিন ও নেপালের মধ্যে সংযোগকারী একটি সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে পরিবারের আশঙ্কা। পরিবারের আশা, উদ্ধারকারীরা তাঁদের জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাবেন। অমিতার ছেলে বিশ্বাস করেন, বেঁচে ফিরলে তাঁর মা এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে ‘অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার’ গল্প হিসেবেই ব্যাখ্যা করবেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিম তিব্বতে অবস্থিত কৈলাস হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ এবং বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাস হল ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর আবাস। তীর্থযাত্রীরা সাধারণত কয়েক দিনে প্রায় ৩৩ মাইল পথ হেঁটে পর্বতটিকে প্রদক্ষিণ করেন। কৈলাসের চূড়ায় ওঠার বদলে এই প্রদক্ষিণই তীর্থযাত্রার মূল উদ্দেশ্য। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কৈলাস অঞ্চলে তীর্থযাত্রা ও পর্যটনের মরশুম থাকে। বছরের বাকি সময়ে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার কারণে যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়ে। চলতি মরশুমে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার পর্যটক ও তীর্থযাত্রী এই অঞ্চলে গিয়ে এই ভয়াবহ বন্যায় বিপদে আক্রান্ত হয়েছেন।


