28 C
Kolkata
Monday, August 31, 2026
spot_img

মাটি বসে বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি! নেপালের পর কলকাতার সামনেও জোড়া বিপদের বার্তা ?

Aaj India Desk, কলকাতা: একদিকে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, অন্যদিকে দ্রুত বসে যাচ্ছে বদ্বীপের মাটি। ফলে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র, ব্রাহ্মণী ও মহানদী বদ্বীপে বন্যার ঝুঁকি (Kolkata Flood Risk) আরও বাড়ছে। কলকাতাতেও মাটি বসার হার বদ্বীপ এলাকার গড় হারের সমান বা তার বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের জল বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির উচ্চতা কমে যাওয়া কলকাতা-সহ উপকূলীয় শহরগুলিতে বন্যার ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে নেপালের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কলকাতা নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সমুদ্র বাড়ার সঙ্গে বসছে মাটি

পূর্ব ভারতের একাধিক বদ্বীপে বিস্তীর্ণ এলাকা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের পাশাপাশি ব্রাহ্মণী ও মহানদী বদ্বীপেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। এর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত উত্তোলন। বদ্বীপ অঞ্চলের কোথাও কোথাও বছরে মাটি বসার হার ৪ মিলিমিটারেরও বেশি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারও প্রায় ৪ মিলিমিটার প্রতি বছর। অর্থাৎ, কিছু এলাকায় সমুদ্র যতটা ওপরে উঠছে, তার থেকেও দ্রুত নিচে নামছে জমি।

কলকাতার নীচের জমি নিয়েও উদ্বেগ

কলকাতার পরিস্থিতিও এই প্রবণতার বাইরে নয়। শহরে মাটি বসার হার বদ্বীপ এলাকার গড় হারের সমান বা তার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতে কলকাতায় বছরে ৪ থেকে ১২ মিলিমিটার পর্যন্ত ভূমি বসে যাওয়ার হারও পাওয়া গিয়েছিল। হুগলি নদীর পশ্চিম দিকেও নতুন নতুন ভূমি বসে যাওয়ার এলাকা তৈরি হয়েছে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নেমে যাওয়ার সঙ্গে এই প্রবণতার সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। (Kolkata Flood Risk)

ভূগর্ভস্থ জলেই লুকিয়ে সমাধানের পথ?

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। বড় পরিসরে ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ বা groundwater recharge করা গেলে মাটি বসার গতি কমানো সম্ভব। যে এলাকাগুলিতে বড় আকারে জল পুনর্ভরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে মাটি বসার হার বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ মিলিমিটার কমার নজির রয়েছে।অর্থাৎ, ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং জল পুনর্ভরণের পরিকাঠামো তৈরি করা কলকাতার মতো শহরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

শুধু বন্যা নয়, বিপদ পরিকাঠামোতেও

জমির উচ্চতা দীর্ঘদিন ধরে কমতে থাকলে বন্যার জল দ্রুত ঢুকে পড়ার পাশাপাশি জল বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যাও বাড়তে পারে। উপকূলীয় ও বদ্বীপ এলাকায় বসতি, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।দীর্ঘমেয়াদে মাটি বসার হার বেশি থাকলে ভবন ও অন্যান্য পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবতে হতে পারে। প্রয়োজনে ভবন নির্মাণের নকশা ও নির্মাণবিধিতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। (Kolkata Flood Risk)

বিশ্বের বিভিন্ন বদ্বীপে ভূমি বসে যাওয়ার কারণে প্রায় ২৩.৬ কোটি মানুষ বাড়তি বন্যার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। ফলে কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, নগর পরিকল্পনা এবং পরিকাঠামো সুরক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তার সঙ্গে যদি মাটির উচ্চতাও দ্রুত কমতে থাকে, তাহলে বন্যার ঝুঁকি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। নেপালের এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির পর কলকাতার ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনা, জল পুনর্ভরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল পরিকাঠামোয় জোর দেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন