30 C
Kolkata
Monday, August 31, 2026
spot_img

হড়পা বানের ৩ মাস আগেই চিনের দ্বারস্থ নেপাল, বিপর্যয়ের আগে কোথায় ছিল খামতি?

Aaj India Desk,কাঠমান্ডু : ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যার পর নেপাল-চিনের মধ্যে দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, ২৬ আগস্টের বিপর্যয়ের প্রায় তিন মাস আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিল কাঠমান্ডু। হিমবাহের পরিবর্তন, নদীর জলস্তর, অতিবৃষ্টি এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা সেখানে জানানো হয়েছিল।

জানা গিয়েছে , ২৭ মে কাঠমান্ডুতে হওয়া ওই বৈঠকে নেপালের ১০ জন সরকারি আধিকারিক এবং তিব্বত-সহ চিনের প্রায় এক ডজন প্রতিনিধি অংশ নেন। বন্যা, আবহাওয়া ও হিমবাহজনিত বিপদ মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদগুলির তালিকা তৈরি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করে মানচিত্র তৈরির বিষয়ও আলোচনায় আসে।

নেপালের জলবিদদের বক্তব্য, হিমবাহ বা তার আশপাশে অস্বাভাবিক কোনও পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত সেই খবর পাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি ছিল। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী এমন তথ্য নিয়মিত মেলেনি। যদিও নেপালের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে চিন। বেজিংয়ের পাল্টা বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাসময়েই নেপালকে দেওয়া হয়েছিল।

এরপর ২৬ আগস্ট তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ঘটে ভয়াবহ বিপর্যয়। হিমবাহ ধসে জল, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে আসে। সর্বশেষ হিসাবে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে ৮০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩,০০০-এর বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে ২৭৫ জন ভারতীয়।

বিপর্যয়ের ১২ দিন আগেও চিনের আবহাওয়া সংস্থা ই-মেলের মাধ্যমে নেপালকে সতর্ক করেছিল। সেখানে ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস ও হড়পা বানের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু নেপালের দাবি, শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাস যথেষ্ট নয়; হিমবাহ, জলস্তর এবং অন্যান্য চরম পরিস্থিতির তথ্যও আরও ঘন ঘন প্রয়োজন। এমনকি প্রতি ১০ মিনিট অন্তর তথ্য দেওয়ার কথাও চাওয়া হয়েছিল।

২৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৩২ মিনিট নাগাদ তিব্বতের গিরং সীমান্ত দিয়ে প্রবল জলস্রোত নেমে আসে। অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রিশূলী নদীতে বন্যার খবর পৌঁছয়। সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে নেপাল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে। এর মধ্যেই অন্তত চারটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়।

বন্যার জল ও ধ্বংসাবশেষ প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পথ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ১০ শতাংশের বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্য আদানপ্রদানে বিলম্বকেই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ বলা যায় না। হিমবাহ ধসের এলাকাতেই নজরদারি ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল ছিল। তবে ঘটনার পর সীমান্তের ওপার থেকে আরও দ্রুত ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে আগাম সতর্কতা আরও কার্যকর করতে চিনের সঙ্গে নতুন তথ্য বিনিময় চুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করছে নেপাল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন