29 C
Kolkata
Tuesday, September 1, 2026
spot_img

বর্ষায় ফের ডেঙ্গির চোখরাঙানি, এক সপ্তাহে ৮০০ হাসপাতালে!শহরের জলজট নিয়ে সরব স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Aaj India Desk,কলকাতা: বর্ষার শুরু হতেই কলকাতায় ফের ডেঙ্গির সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাত্র সাত দিনে ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে প্রায় ৮০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গিয়েছে।

তবে সরকারি হিসাবে চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৮৭। ২০২৬ সালের একই সময়সীমায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৭। অর্থাৎ সংখ্যার বিচারে সংক্রমণ কমেছে। কিন্তু সাধারণত বছর-বছর ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে থাকে। এবার সেই হ্রাসের হার মাত্র ১৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় উদ্বেগ রয়েছে।

কলকাতার ডেঙ্গি ঝুঁকি নিয়েও একটি তথ্য সামনে এসেছে। ৩০ আগস্টের স্বাস্থ্য-ঝুঁকি সূচকে শহরের ডেঙ্গি ঝুঁকি ৩৯/১০০ হিসাবে দেখানো হয়েছে। তবে এই ৩৯/১০০ কোনওভাবেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নয় এটি সংক্রমণের ঝুঁকি বোঝানোর একটি সূচক। ওই সূচকে কলকাতাকে ডেঙ্গির ক্ষেত্রে ‘মাঝারি’ ঝুঁকির পর্যায়ে রাখা হয়েছে। একই সূচকে আবার শহরে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি ডেঙ্গির তুলনায় বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও রয়েছে পৃথক হিসাব। চলতি বছরে ডেঙ্গি আক্রান্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিললেও ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনায় সাতটি ক্ষেত্রে ডেঙ্গিকেই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে। বাকি তিনজন ডেঙ্গি পজিটিভ ছিলেন, কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে অন্য শারীরিক জটিলতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।২০২৫ সালে ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জনের এবং ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা ছিল ৩১।

এদিকে শহরের জমা জল ও কৃত্রিম জলাশয় নিয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সৌন্দর্যায়নের উদ্দেশ্যে তৈরি ‘পদ্ম পুল’গুলির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বহু জায়গায় এই ধরনের জলাশয় তৈরি হলেও পরে ঠিকমতো পরিচর্যা করা হয় না। ফলে সেখানে মশার লার্ভা জন্মানোর পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এমন উদ্যোগ বন্ধ করার পক্ষেই মত দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ওই জলাশয়গুলিতে পদ্ম ফোটা বা মাছ দেখা যাওয়ার বদলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।

তবে কেএমসির মুখ্য পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাসের মতে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। একই সঙ্গে ডেঙ্গি মোকাবিলায় নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং জমা জল এড়িয়ে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন