Aaj India Desk,কাঠমান্ডু: নেপালের রাসুওয়া জেলার সিয়াব্রুবেসি এলাকায় হড়পা বানের পর উদ্ধার অভিযানে ঘটল অবিশ্বাস্য ঘটনা। চারদিকে কাদা, পলি আর ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নিখোঁজদের সন্ধান করছিলেন উদ্ধারকারীরা। সেই সময় মাটির নীচ থেকে ভেসে আসে ক্ষীণ আওয়াজ। শব্দটি শুনে প্রথমে তাঁদের মনে হয়েছিল, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে হয়তো কোনও বিড়াল আটকে রয়েছে। সেই ধারণা নিয়েই শুরু হয় খোঁজ। কিন্তু ধীরে ধীরে পলি ও মাটি সরানোর পর সামনে আসে একেবারে অন্য ছবি। সেখানে আটকে ছিল পাঁচ বছরের শিশু মণীষা।
বন্যার পর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা মাটি ও ধ্বংসাবশেষের নীচে চাপা পড়ে ছিল শিশুটি। শুক্রবার তাকে খুঁজে পান উদ্ধারকারীরা। দীর্ঘ প্রায় দু’ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর নিরাপদে তাকে ধ্বংসস্তূপের বাইরে আনা হয়। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর আধিকারিক সঞ্জু খত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁরা শব্দটির উৎস হিসেবে কোনও প্রাণীকে সন্দেহ করেছিলেন। পরে উদ্ধারকাজ এগোতেই শিশুটির সন্ধান মেলে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করার পর মণীষা জীবিত ছিল ঠিকই, তবে তখন তার সাড়া ছিল খুবই কম। দ্রুত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় সেই মুহূর্তে আকাশপথে স্থানান্তর করা যায়নি। ফলে তাকে আগে উদ্ধারকারী দলের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জল খাওয়ানোর পর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার জ্ঞান ফেরে। পরে তাকে সেদ্ধ চালের জল খাওয়ানো হয়।
শনিবার বিকেলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে বিমানেই মণীষাকে কাঠমাণ্ডুর টিচিং হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। রবিবার পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও শিশুটির দেখা হয়েছে।
তবে মণীষার উদ্ধারের ঘটনা নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে স্বস্তির বার্তা আনলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। রবিবার পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা ৭৮৮-তে পৌঁছেছে। নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন প্রায় ২,৫০২ জন। তাঁদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক।
অসংখ্য দেহ উদ্ধারের পর সেগুলি শনাক্ত ও সংরক্ষণ করাও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরিচয় নিশ্চিত করার পর কিছু দেহ সাময়িকভাবে কবর দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এই ভয়াবহতার মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের গভীর থেকে দু’দিন পর মণীষার জীবিত অবস্থায় ফিরে আসা যেন নেপালের বিপর্যস্ত মানুষের জন্য এক টুকরো আশার আলো।


