Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফের সময়ের আবেদন। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিলের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং রাজ্য সরকার। বর্তমান সময়সীমা ৩১ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। তার পরিবর্তে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে।
আগামী সোমবার এই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সচিন সচদেবার বেঞ্চে বিষয়টি উঠবে। এর আগে শীর্ষ আদালত নিয়োগ সংক্রান্ত কাজ শেষ করার জন্য প্রথমে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। পরবর্তীতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট করা হয়। এবার সেই সময়সীমা আরও প্রায় আট মাস বাড়ানোর আর্জি জানাল কমিশন।
কেন এতটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে SSC। কমিশনের দাবি, পরীক্ষার উত্তরপত্র বা অ্যানসার কি প্রকাশের পর বিপুল সংখ্যক আপত্তি জমা পড়ে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ৪৪টি বিষয়ের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ লক্ষ ২৯ হাজার অভিযোগ কমিশনের কাছে আসে। প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করতে আলাদা রিভিউ কমিটি গঠন করতে হয়েছে।
শুধু অভিযোগ যাচাই নয়, OMR শিট নিয়েও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়েছে কমিশনকে। পাঁচ লক্ষের বেশি OMR শিট স্ক্যান করার কাজ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে তিন দফায় প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয়টিও। রাজ্য নির্বাচনের পর SSC-র তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং পাঁচটি জনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা পদ ছাড়েন। ফলে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজেও কিছুটা গতি কমে যায়।
এর মধ্যেই OBC সংরক্ষণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আইনি প্রশ্ন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া OBC-A এবং OBC-B শংসাপত্র বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের সাধারণ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের প্রেক্ষিতে সংরক্ষণ নীতি নিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে SSC।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতিও অবশ্য একেবারে থেমে নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরে হওয়া পরীক্ষায় নবম-দশম শ্রেণির জন্য ২ লক্ষ ৯৩ হাজার এবং একাদশ-দ্বাদশের জন্য ২ লক্ষ ২৯ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, একাদশ-দ্বাদশের প্যানেল প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে। ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে ২১টির কাউন্সেলিং ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে ৩৫৮৬ জনের নিয়োগের সুপারিশ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নবম-দশমের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রার্থীদের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
তবে ফের সময় চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন যোগ্য প্রার্থীরা। তাই আর দেরি না করে যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার প্রয়োজন রয়েছে।


