Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: তরুণ প্রজন্মকে (Young Generation) আরও কাছে টানতে বড়সড় জনসংযোগ কর্মসূচি নিতে চলেছে বিজেপি (BJP)। দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের (Nitin Nobin) নেতৃত্বেই এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। বিশেষ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং যুব সমাজের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দিতে চাইছে দল।
নিট কেলেঙ্কারিকে (NEET Paper Leak) কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া জেন-জি (ZEN- Z) আন্দোলনের প্রভাব এখনও রয়েছে বলে মনে করছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন দাবি ও ইস্যুকে সামনে রেখে তরুণদের আন্দোলনে নামার ঘটনাও বাড়ছে। বিজেপির নজরে এই প্রবণতার অন্যতম কেন্দ্র উত্তরপ্রদেশ।
সামনেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সেখানে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নামছেন। কোথাও পথ অবরোধ, কোথাও সরকারি দফতর ঘেরাও—বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তাঁরা। কয়েকটি জায়গায় স্কুল পড়ুয়াদেরও আন্দোলনে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। দিল্লিতে চলা সংরক্ষণ-বিরোধী আন্দোলনেও উত্তরপ্রদেশের তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে দলের ফল খারাপ হলে তার প্রভাব শুধু রাজ্য রাজনীতিতেই নয়, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে মনে করছে বিজেপি।
এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই শনিবার রাতে দলের যুব নেতৃত্ব ও মাঝারি স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নিতিন নবীন। তাঁর বাসভবনে হওয়া ওই বৈঠকে বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি হিমাঙ্গ জোশি ছাড়াও অনুরাগ ঠাকুর, পুনম মহাজন এবং তেজস্বী সূর্য উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ছিলেন স্মৃতি ইরানি, অশ্বিনী বৈষ্ণ, মনসুখ মান্ডভিয়া, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো নেতারাও। গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি এবং ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মাও বৈঠকে যোগ দেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৪০ জনেরও বেশি যুব নেতাকে ওই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। তাঁদের সামনে দলের আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। যুব নেতৃত্বকে দ্রুত মাঠে নেমে জনসংযোগ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এক মাস ধরে ‘সেবা সংকল্প’ অভিযান চালানো হবে। এই সময়ে দলের নেতা-কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। বিজেপির পাশাপাশি দলের বিভিন্ন গণসংগঠনও এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে।
১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো। এরপর অক্টোবর মাসে শুরু হবে দুর্গাপুজো। ১৭ অক্টোবর দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী। তাই পুজোর মরসুম শুরু হওয়ার আগেই মাসব্যাপী এই কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। এই অভিযানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সহযোগী সংগঠনগুলিকেও যুক্ত করা হবে। এ নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আরএসএস নেতৃত্বের আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। দিল্লির সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও জনসংযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম কী ভাবছে, তা ধৈর্য ধরে শোনার উপর তিনি জোর দিয়েছিলেন।
‘সেবা সংকল্প’ অভিযানে মূলত মোদী সরকারের কাজ ও সাফল্যের খতিয়ান তরুণদের সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। একই সঙ্গে ইউপিএ সরকারের সময়ের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কাজের তুলনাও তুলে ধরা হবে। বিরোধীদের ‘ভুল প্রচার’ মোকাবিলা করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এই প্রচারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ বা ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’ নামে একটি প্রচার শুরু করেছে বিজেপি।


