Aaj lndia Desk, কলকাতা:মেসির কলকাতা সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার গড়াল ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের টাকা ফেরানোর উদ্যোগে। জাতীয় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-জানান, টিকিট কিনেও প্রতারিত হয়েছেন এমন প্রায় ৩৩ হাজার ক্রীড়াপ্রেমীর অর্থ ফেরানোর বিষয়ে রাজ্য সরকার কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি কীভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মেসিকে দেখার আশায় অনেকে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছিলেন। সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে টিকিট কেনা সাধারণ তরুণদের পাশাপাশি ডেলিভারি কর্মীরাও ছিলেন সেই দর্শকদের মধ্যে। অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রত্যাশামতো পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগের পর তাঁদের আর্থিক ক্ষতি পূরণের পথ খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এই বিতর্কের আবহেই বাংলার ক্রীড়া ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত দুর্বলতা, প্রশাসনিক জট এবং ক্রীড়া সংস্থাগুলির পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন। এই পরিস্থিতি বদলাতে ক্রীড়া দফতরের জন্য আট মাসের বাজেটে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাজ্যজুড়ে মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রকে ধাপে ধাপে এই পরিকাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম বছরে ১০০টি মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সেখানে ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস এবং জিমের মতো সুবিধা থাকবে।
পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ক্রীড়া পরিকাঠামোকে ফের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শ্রী অরবিন্দ স্টেডিয়ামের সংস্কারের পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় সাব-ডিভিশনাল ও ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনগুলিকেও সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের ক্লাবগুলিকে বছরে ১ কোটি টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে ১৪৫ জন কৃতী প্রতিযোগীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাঁদের হাতে মোট ৪ কোটি ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।
খেলোয়াড়দের জন্য আর্থিক সহায়তার কাঠামোতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু পদক জেতার পরে পুরস্কার দেওয়ার বদলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জনের সময় থেকেই সাহায্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশ-সহ সরকারি ডিসিপ্লিনড সেক্টরে স্পোর্টস কোটায় চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগের পাশাপাশি ‘অটল খেলরত্ন খেল সম্মান’ চালুর কথাও জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্প থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য। DPR নিয়ে দিল্লি যাওয়ার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং মুখ্যসচিব অবনীন্দ্র সিনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য, প্রয়োজন হলে কেন্দ্রের কাছ থেকে ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ আদায়ের চেষ্টা করা।
অর্থাৎ, মেসি-কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের অর্থ ফেরানোর উদ্যোগের পাশাপাশি রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো, অর্থসাহায্য এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ তিন ক্ষেত্রেই একসঙ্গে পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে আনল সরকার।


