Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: প্রয়াত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমার (Sajjan Kumar)-কে ঘিরে ১৯৮৪-র দাঙ্গার পুরনো বিতর্ক ফের জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছে। তবে এবার কংগ্রেস নয়, আলোচনার কেন্দ্রে বিজেপি। সজ্জন কুমারের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর দলের তিন দিল্লির সাংসদকে ডেকে পাঠিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এই ঘটনায় অসন্তোষ জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় নাম এসেছে রামবীর সিং বিধুড়ি, যোগেন্দ্র চন্দোলিয়া এবং কমলজিৎ সেহরাওয়াতের। তিন বিজেপি সাংসদই সজ্জন কুমারের বাসভবনে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু ১৯৮৪-র দাঙ্গার মামলায় দণ্ডিত এক প্রাক্তন কংগ্রেস নেতার বাড়িতে বিজেপি সাংসদদের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসার পরই তাঁদের তলব করা হয়।
সজ্জন কুমারের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত। কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে তিনি দিল্লির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার মামলাগুলিই পরবর্তীকালে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে পাঁচ শিখকে হত্যার ঘটনা এবং একটি গুরুদ্বার পোড়ানোর মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
এরপরও তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া থামেনি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জসওয়ন্ত সিং এবং তাঁর ছেলে তরুণদীপ সিংকে হত্যার মামলায়ও দিল্লির একটি আদালত সজ্জন কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা দেয়। ফলে জীবনের শেষ পর্যায়ে তাঁকে কারাগারেই থাকতে হয়।
অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য তাঁকে তিহাড় জেল থেকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। উচ্চ রক্তচাপ ও পারকিনসন্স-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। অগস্টে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে বয়স নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ৮০ এবং ৮৪—দুই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে তিন বিজেপি সাংসদের সফরকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আক্রমণ শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৮৪-র দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবর্তে দাঙ্গায় দণ্ডিত সজ্জন কুমারের পরিবারের কাছে বিজেপি নেতারা কেন গেলেন। শিখ দাঙ্গার মামলায় দীর্ঘদিন আইনি লড়াই করা আইনজীবী এইচ এস ফুলকাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ফলে একটি পরিবারের প্রতি ব্যক্তিগত সমবেদনা জানানোর ঘটনা এখন দলীয় শৃঙ্খলা, ১৯৮৪-র দাঙ্গার স্মৃতি এবং শিখ সম্প্রদায়ের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। বিজেপির তিন সাংসদের এই সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক জলঘোলা করতে পারে।


