Aaj lndia Desk,মালদহ: মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ আরও বাড়ল। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে যায় বিশেষজ্ঞদের একটি দল। সেখানেই আগস্টের শুরু থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত শিশুমৃত্যুর যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ওই সময়ের মধ্যে মোট ৮৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা।
পরিস্থিতির কারণ খুঁজতে হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন প্রতিনিধিরা। স্বাস্থ্য দফতরের অতিরিক্ত ডিরেক্টর প্রলয় আচার্যের নেতৃত্বে চার সদস্যের দলটি চিকিৎসকদের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে। পরিদর্শন শেষে তাঁদের বক্তব্য, মৃত শিশুদের ক্ষেত্রে একাধিক শারীরিক জটিলতা ছিল। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে মা ও শিশুর অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করে তুলেছিল।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, বহু সদ্যোজাতের জন্মের পর শ্বাস নিতে সমস্যা, হৃদ্যন্ত্রের অসুস্থতা, জন্ডিস এবং অত্যন্ত কম ওজনের মতো সমস্যা ছিল। ফলে শুধুমাত্র একটি কারণকে দায়ী করে শিশুমৃত্যুর ব্যাখ্যা করা যায় না। একই সঙ্গে গর্ভবতী মহিলা এবং প্রসূতিদের স্বাস্থ্যপরিষেবায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর।
তদন্তে চিকিৎসা ব্যবস্থার বাইরেও কিছু প্রশাসনিক সমস্যা ধরা পড়েছে। জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব এবং হাসপাতালের কয়েকটি পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
আগস্টের মাঝামাঝি একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মালদহ মেডিক্যাল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল, মৃত ১০ শিশুর মধ্যে আটজনকে অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখানে পাঠানো হয়েছিল। মালদহ মেডিক্যালে জন্ম নেওয়া দু’টি শিশুরও সেদিন মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর জেলার বিভিন্ন নার্সিংহোমে নজরদারি বাড়ানো হয় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়। পাশাপাশি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও মালদহের শিশুমৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে।
এখন বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসা, রেফারাল ব্যবস্থা, পুষ্টির পরিস্থিতি এবং হাসপাতালের পরিকাঠামো। পাশাপাশি মালদহে বেআইনি গর্ভপাতের কোনও চক্র সক্রিয় কি না, সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।


