Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: আরজি করের (RG Kar) তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফের আলোচনার কেন্দ্রে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। শনিবার খড়দহ থেকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ৭৮ বছর বয়সি এই তৃণমূল নেতা (TMC Leader)। সেখানেই তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মল ঘোষ বলেন, তরুণী চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকার করা বা সেই সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না। তাঁর দাবি, তিনি সেখানে শুধুমাত্র ‘শ্মশান বন্ধু’ হিসেবে গিয়েছিলেন। ময়নাতদন্ত থেকে শুরু করে দেহ সৎকার পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপরই আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মাকে নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন নির্মল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, মে মাসের ৪ তারিখ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতার দম্ভ ও লোভে তাঁরা ‘পাগল হয়ে গিয়েছেন’। মিথ্যা অভিযোগ এবং প্ররোচনার মাধ্যমে তাঁকে মানসিক ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আইন-আদালতের প্রক্রিয়াকেও উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন এই প্রবীণ নেতা।
আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্টের অভিযোগের তদন্তে আগেই নির্মল ঘোষের নাম উঠে আসে। পরে পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তরুণী চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকার এবং তথ্যপ্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার মতো অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ন’টি জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার শুরু থেকেই তাঁর আইনজীবী নির্মল ঘোষের বয়স এবং বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে জামিনের আবেদন করে আসছেন।
তবে মামলাকে ঘিরে আদালতের বাইরে পরিস্থিতি বারবার উত্তপ্ত হয়েছে। আগেরবার তাঁকে আদালতে পেশ করার সময় খড়দহ থানা ও আদালত চত্বরে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মাথায় হেলমেট পরিয়ে নির্মল ঘোষকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
এমনকি তাঁকে ঘিরে ধস্তাধস্তি ও জুতোর মালা পরানোর চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। আরজি কর কাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তার মধ্যেই নির্যাতিতার বাবা-মাকে নিয়ে নির্মল ঘোষের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।


