Aaj India Desk, কলকাতা: রাখিবন্ধন উৎসব এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)-এর প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ক্যাথেড্রাল রোডে আয়োজিত জনসভা থেকে বিজেপি (BJP) ও পুলিশের (Police) ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisek Banerjee)। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবর ও ভুয়ো প্রচার নিয়েও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করেন তিনি।
সভায় অভিষেক বলেন, “আপনারা অনেক খবর দেখছেন। কিন্তু যতক্ষণ না আমার মৃতদেহ দেখছেন এবং তার উপরে জোড়া ফুলের পতাকা দেখছেন, ততক্ষণ কোনও কথাই বিশ্বাস করবেন না। জব তক মে মরা নেহি, তব তক মে হারা নেহি।”
বেইমানদের দলে ফেরানো নিয়ে কড়া বার্তা
দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়া নেতাদের নিয়েও এ দিন স্পষ্ট বার্তা দেন অভিষেক। কুণাল ঘোষের বক্তব্যকে সমর্থন করে তিনি বলেন, তৃণমূলে কে ফিরবেন বা ফিরবেন না, সেই বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে যারা দলের সঙ্গে থেকে শেষ সময়ে নিজেদের স্বার্থে বিজেপির দিকে চলে গিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না। অভিষেকের অভিযোগ, তৃণমূলের সুবিধা নিয়ে পরে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে যারা নিজেদের পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ভবিষ্যতে দলে ফেরানোর ক্ষেত্রে কোনও সহানুভূতি দেখানো হবে না।
তাঁকে নিয়ে আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের প্রসঙ্গও তোলেন অভিষেক। ওই খবর প্রকাশ করা সংবাদমাধ্যমের মালিকের ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ NCLT-এর মাধ্যমে মকুব হয়েছে বলে দাবি করে তিনি কটাক্ষ করেন, “আমাকে গালাগালি করার জন্য যদি ২২ হাজার কোটি টাকা মকুব হয়, তাহলে ভাই, আমার যে এত দাম—এটা তো আগে জানতাম না!”
ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড নিয়ে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি
ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের বাইরে থাকা বিলবোর্ড পুলিশ ও পুরসভার মাধ্যমে খুলে ফেলার ঘটনাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। অভিষেকের অভিযোগ, কোনও বেআইনি পদক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “অত্যাচার যতটা করবেন, ততটাই করুন—তবে মনে রাখবেন, যতটা সহ্য করার ক্ষমতা আছে, তার বেশি করবেন না।”
সিবিআই, ইডি, সিআইডি, এসটিএফ এবং রাজ্য পুলিশ—সব এজেন্সিকে একসঙ্গে ব্যবহার করা হলেও তৃণমূল ভয় পাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে তাঁর চ্যালেঞ্জ, “বুকের পাটা থাকলে আগে ছাত্র-যুবদের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করে দেখান।”
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ
দেশের বাজারদর নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম দ্রুত বাড়ছে। তিনি বলেন, অগস্টের শুরুতে যেখানে চিনির দাম ছিল প্রায় ৪০ টাকা কেজি, সেখানে এখন তা ৭০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকা কেজি, একটি পাতিলেবু ১০ টাকা এবং সর্ষের তেলের দাম ২০০ টাকার বেশি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি পেট্রোলের দাম ১১৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
‘সিঙ্গেল ইঞ্জিন’ বনাম ‘ডাবল ইঞ্জিন’ নিয়ে তুলনা
রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ‘সিঙ্গেল ইঞ্জিন’ এবং বিজেপি-শাসিত কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সরকারকে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ হিসেবে তুলনা করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রায় আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা দিচ্ছে। অথচ ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার দেড় কোটি মহিলাকে এই সুবিধা দিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
২০১৬ সালের বাজেটের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক আরও দাবি করেন, সে সময় প্রায় ৮০ লক্ষ যুবককে মাসে ১,৫০০ টাকা করে যুবশ্রী ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার প্রায় ৭৫ লক্ষ যুবশ্রী প্রাপক এবং এক কোটি মহিলাকে বিভিন্ন তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।
বুদ্ধদেবের ‘২৩৫’-এর প্রসঙ্গ, শুভেন্দুকে নিশানা
বিজেপির ২০৮ আসন পাওয়ার দাবির প্রসঙ্গ টেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ২০০৬ সালের মন্তব্যের কথাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক। সেই সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ‘আমরা ২৩৫, ওরা ৩০’ মন্তব্যের কথা তুলে ধরে অভিষেক বলেন, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সেই সময়ের পর মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলার মানুষ সিপিএমকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। একই উদাহরণ দিয়ে বিজেপিকেও সতর্ক করেন তিনি। অভিষেকের দাবি, বিজেপির ‘শেষের শুরু’ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। আগামী পাঁচ বছর পর বাংলায় বিজেপিকে খুঁজে পাওয়াও কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


