Aaj lndia Desk, কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিসের সামনে হোর্ডিং খোলাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবারের উত্তেজনার ঘটনায় বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পুলিশ। ঘটনার পর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে তিনটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে থাকা একটি হোর্ডিং নিয়ে আপত্তি ছিল কলকাতা পুরসভার। পুরসভার তরফে সেটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপসারণের সময় নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই মতো শেক্সপিয়ার সরণি থানার একটি দল সেখানে যায়।
এরপরই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় বলে পুলিশের দাবি। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন। তাঁদের সঙ্গে আরও বহু সমর্থক জড়ো হন বলে পুলিশের অভিযোগ। পুরসভার কর্মীরা যাতে তাঁদের নির্ধারিত কাজ করতে পারেন, সেই কাজে বাধা তৈরি করা হয়েছিল বলেও দাবি পুলিশের।
পুলিশের আরও অভিযোগ, পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী ও পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে সরকারি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। জানা গিয়েছে এক মহিলা পুলিশকর্মীর উপর হামলা এবং তাঁকে হেনস্থার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে থাকা সরকারি কর্মীদের ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। হোর্ডিং খোলাকে কেন্দ্র করে অভিষেকের অফিসের কর্মীদের সঙ্গে পুরসভা ও পুলিশের কর্মীদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমে হাতাহাতিতে গড়ায়। দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েন চলার পর শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ পুরসভার কর্মীরা হোর্ডিংটি সরিয়ে দেন।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ১৩ জন গ্রেফতার হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তিনটি মামলায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


