Aaj India Desk, কলকাতা : সল্টলেকে বৃহস্পতিবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) উদ্যোগে আয়োজিত হল ‘জয় মা দুর্গা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংবাদিক বৈঠক। দুর্গাপুজো, ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং উৎসবের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে সভা থেকে একাধিক বক্তব্য উঠে আসে। তবে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই প্রচলিত ধারণা নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) বক্তব্য, প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব উৎসব, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। তাই প্রত্যেক ধর্মের উৎসবকে তার নিজস্ব পরিচয় ও মর্যাদার সঙ্গে দেখা উচিত। সংগঠনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই ধারণা প্রচলিত থাকলেও বাস্তবে কোনও ধর্মই সম্পূর্ণভাবে এই ধারণাকে গ্রহণ করে না। দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ তুলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) পক্ষ থেকে বলা হয়, এই উৎসবের সঙ্গে হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি, আবেগ এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে হিন্দু সমাজের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সভায় প্রশ্ন তোলা হয়, অন্য ধর্মের উৎসবে কতজন হিন্দু নিয়মিতভাবে অংশ নেন? একইভাবে হিন্দুদের উৎসবে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য, প্রতিটি ধর্মের উৎসবকে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের নিজস্ব আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জায়গা থেকে দেখা প্রয়োজন।আর এখানেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের কথা বলার পাশাপাশি উৎসবের সামাজিক ও সর্বজনীন চরিত্রও কি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়? বাংলায় দুর্গাপুজো দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের একটি বৃহৎ সামাজিক পরিসর তৈরি করেছে। সেই জায়গায় ধর্ম ও উৎসবকে আলাদা পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বক্তব্য সামাজিক সম্প্রীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মত উঠছে। ধর্মীয় পরিচয় ও নিজস্ব সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই উৎসবকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক অংশগ্রহণ ও সম্প্রীতির পরিসর অক্ষুণ্ণ রাখাও জরুরি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য সেই ভারসাম্যকে কতটা বজায় রাখতে পারছে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।


