Aaj India Desk, কাঠমান্ডু : নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বন্যার পরও কাটছে না বিপদের আশঙ্কা। ধসে পড়া হিমবাহ, ধস ও পলি-বাহিত প্রবাহের জেরে তৈরি হওয়া বন্যায় ইতিমধ্যেই নেপালে অন্তত ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ৯০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বাড়িঘর, রাস্তা ও সেতু। এর মধ্যেই বন্যাকবলিত এলাকায় নদীর জল আটকে তৈরি হয়েছে একটি জলাধার বা হ্রদ। দ্রুত জলস্তর বাড়তে থাকায় সেটি প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে প্লাবন ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করেছে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ। (Nepal Flood)
নদীর জল আটকে তৈরি নতুন হ্রদ
নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার নদীর গতিপথ কোনওভাবে আটকে যাওয়ার পর ওই এলাকায় জল জমে নতুন হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে। সেখানে ক্রমশ জল বাড়ছে। ফলে জলাধারটি উপচে পড়লে বা প্রাকৃতিক বাধ ভেঙে গেলে ফের বড়সড় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীদের নদীর পাড় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলি। (Nepal Flood)
ধ্বংসস্তূপে এখনও চলছে তল্লাশি
ভয়াবহ বন্যায় বহু বাড়ি, রাস্তা ও সেতু জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপ এবং দুর্গম এলাকাগুলিতে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৩-তে পৌঁছেছিল। পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা অন্তত ৩৫৯ বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা ৯০০-র বেশি। (Nepal Flood)
তিব্বতেও বিপুল সংখ্যক নিখোঁজ
নেপাল সীমান্তের ওপারে তিব্বতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ এবং তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে নেপাল ও তিব্বতের নিখোঁজের পরিসংখ্যানের মধ্যে একই ব্যক্তির নাম রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।।মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষার প্রাথমিক ব্যাখ্যায়, ‘হিমবাহ ধসে পড়া এবং ধসের সঙ্গে পলি-বাহিত প্রবাহ’ এই ভয়াবহ জলপ্রবাহের অন্যতম কারণ হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নেপালের প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয় পর্যটক, ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও বহু নেপালি নাগরিক এবং সেনা-পুলিশ কর্মীরও খোঁজ মিলছে না।
একদিকে যখন ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের খোঁজ চলছে, অন্যদিকে নতুন করে জলস্তর বৃদ্ধির খবর প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে গেলে নদীর নীচের দিকে থাকা এলাকাগুলিতে ফের দ্রুত জল ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উদ্ধারকাজ চালালেও উদ্ধারকারীদের নদীর কাছাকাছি যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আপাতত নতুন করে কোনও বড় বিপর্যয় এড়াতে জলাধারটির পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে নেপাল প্রশাসন।


