Aaj India Desk, হাওড়া : মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের হাওড়ার আন্দুলের বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (Howrah Fire)। বুধবার দুপুর দেড়টা নাগাদ তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে হঠাৎ আগুন লেগে কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এলাকা। ঘটনায় মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধার। দ্রুত দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখনও পর্যন্ত ১২-১৩ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে আগুন
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর দেড়টা নাগাদ আন্দুলের একটি তিনতলা আবাসনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে আচমকা আগুন (Howrah Fire) লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজা-জানলা দিয়ে আগুনের শিখা বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া।আগুন পরে পাশের একটি ফ্ল্যাটেও আংশিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে আবাসনের একাধিক বাসিন্দা ভিতরে আটকে পড়েন।
দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন নিয়ে শুরু উদ্ধারকাজ
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর পাশাপাশি শুরু হয় আবাসনের বাসিন্দাদের উদ্ধারের কাজ। দমকলকর্মীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ আধিকারিকরাও। দমকল ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। আবাসনের ভিতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আগুনের মধ্যে আটকে বৃদ্ধা
যে ফ্ল্যাটে আগুন লাগে, সেখানে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন অর্ক মুখোপাধ্যায়। পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে অর্ক অফিসে বেরিয়ে যান এবং তাঁর স্ত্রী চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। ফলে আগুন লাগার সময় ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন অর্কের মা গোপা মুখোপাধ্যায়। আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আগুনে আটকে থাকার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন (Howrah Fire) নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা। তবে ঠিক কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ ও দমকল সূত্রে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, কিংবা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ।


