নয়াদিল্লি: কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রা মুহূর্তে বদলে গেল মৃত্যুফাঁদে। তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া নেপালের রাসুওয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash flood) এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১০৫ জন ভারতীয়-সহ প্রায় ৪০০ জন কৈলাসযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, নেপাল থেকে নেমে আসা জলকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার সীমান্তেও জারি হয়েছে সতর্কতা।
সকাল ৯টার পরেই বদলে যায় সব
নেপালি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ তিব্বতের দিক থেকে ভোটে কোশি নদীতে আচমকা বিশাল জলস্রোত ঢুকে পড়ে (Nepal Flash flood)। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তছনছ হয়ে যায় টিমুরে ও স্যাপ্রু বেসি এলাকা। ঘরবাড়ি, সেতু, গাড়ি, এমনকি সীমান্তবর্তী অবকাঠামো প্রকল্পের একাধিক অংশও ভেসে যায় প্রবল স্রোতে।
রহস্য ঘনাচ্ছে: বৃষ্টি নয়, তবে এল এত জল কোথা থেকে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই হড়পা বানের (Nepal Flash flood) উৎস কী? নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, রাসুওয়ায় তেমন ভারী বৃষ্টি হয়নি। তবে স্যাটেলাইট চিত্রে তিব্বতের দিকে প্রবল বর্ষণের ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) অর্থাৎ হিমবাহের হ্রদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন।
আকাশ থেকেও পৌঁছনো যাচ্ছে না!
উদ্ধারকাজ শুরু করেছে নেপাল সরকার। কিন্তু বহু এলাকায় জল (Nepal Flash flood) এতটাই বেশি যে হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে তিব্বতের গিরং সীমান্তেও ধস নেমে হতাহতের খবর দিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। নিখোঁজদের খুঁজতে সর্বাত্মক তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বিহার–উত্তরপ্রদেশে লাল সতর্কতা
নেপালের পাহাড়ি নদীর জল ধেয়ে আসায় ভারতেও বাড়ছে উদ্বেগ। বিহারের মুখ্যসচিব জেলার প্রশাসকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে গণ্ডক ও কোসি নদী অববাহিকার জেলাগুলিকে বিশেষ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নদীর জলস্তরের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।


