30 C
Kolkata
Tuesday, August 25, 2026
spot_img

বিজেপি কর্মী খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার দলেরই পঞ্চায়েত সদস্য! বারুইপুর কাণ্ডে ধৃত ৫!

Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : বারুইপুরে বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক খুনের ঘটনায় (Baruipur BJP Worker Murder) এবার পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মণ্ডল-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে এক মহিলাও রয়েছেন। সোমবার রাতের দিকে বারুইপুর এলাকা থেকেই সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার তদন্তে খুনের নেপথ্যে থাকা কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্গাপুজোর কমিটি ঘিরে সংঘর্ষ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার অন্তর্গত হরদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ট্যাংগরবেড়িয়া এলাকায় রবিবার রাতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। স্থানীয় দুর্গাপুজোর কমিটি গঠন বা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই বিবাদের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন ৪৫ বছরের বাপি প্রামাণিক। লাঠি, বাঁশ এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। (Baruipur BJP Worker Murder)

পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিত হামলা

বাপির পরিবারের তরফে সোমবার বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের সঙ্গে অভিযুক্তদের নামের একটি তালিকাও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, পুরনো রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই বাপিকে পরিকল্পনা করে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, ফোন করে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে বের করা হয় এবং পরে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। (Baruipur BJP Worker Murder)

এই ঘটনায় স্থানীয় বিজেপির একাংশ পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মণ্ডলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলে। তাঁদের দাবি, তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাপিকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

আগেই দল থেকে সাসপেন্ড?

বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি উত্তম করের দাবি, অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কয়েক দিন আগেই সুজন মণ্ডলকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। বাপি দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী ছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন বৈঠককে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বাপির সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে। বারুইপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় নজরদারি ও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

বাপি প্রামাণিকের পরিবার ও বিজেপির একাংশ ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেও পুলিশ এখনও ঘটনাটিকে মূলত স্থানীয় সংঘর্ষ হিসেবেই তদন্ত করছে। খুনের ঘটনায় সুজন মণ্ডল-সহ পাঁচজনের গ্রেপ্তারির পর তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন