Aaj India Desk, কলকাতা : নিম্ন আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও আপাতত কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। তারা নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে যেকোনো পুলিশি পদক্ষেপ স্থগিত থাকবে। ফলে গ্রেফতারি পরোয়ানা ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি চাপ আপাতত কিছুটা কমল তৃণমূল সাংসদের।
পরোয়ানায় হাইকোর্টের ‘ব্রেক’
মহুয়ার (Mahua Moitra) বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার কার্যকারিতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তাঁর আইনজীবী পক্ষ। শুনানিতে নিম্ন আদালতের বিচারিক এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মহুয়ার আইনজীবী দেবাশিস রায়ের দাবি, সংশ্লিষ্ট তৃতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এই মামলা বিচার করার আইনি এক্তিয়ার নেই। যেহেতু মহুয়া একজন নির্বাচিত সাংসদ, তাই তাঁর বিরুদ্ধে চলা এই বিচারপ্রক্রিয়া বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতেই হওয়া উচিত বলে সওয়াল করেন তিনি।
এছাড়া শুনানির সময় বিচারপতি দেবাংশু বসাক মহুয়ার আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘প্রি-কগনিজেন্স’ পর্যায়েই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হননি কেন।
কী জানালেন মহুয়ার আইনজীবী ?
মহুয়ার (Mahua Moitra) আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল বিষয়টি এড়িয়ে যাননি। তাঁর দাবি, মহুয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনও এফআইআর বা লিখিত পুলিশি অভিযোগও ছিল না। মহুয়ার আইনজীবীর আরও দাবি, গত ১৬ জুন মহুয়ার তরফে অপরপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এরপর পাল্টা হিসেবেই তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশের এই প্রক্রিয়াকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলেও জানান মহুয়ার আইনজীবী।
উল্লেখ্য, গত ১৯ অগস্ট কৃষ্ণনগর জেলা আদালত মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। একটি মামলায় তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে তিনি হাজির না হওয়ায় তাঁর আইনজীবী হাজিরা সম্ভব নয় বলে আদালতকে জানান। এরপর আদালত বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দিলেও সেই সময়ের মধ্যেও মহুয়া হাজির হননি। তাঁর আইনজীবীর তরফে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে ফের জানানো হলে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে নিম্ন আদালত।
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার কার্যকারিতার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে মহুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না।


