Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ১৯ অগস্ট থেকে পরপর ঘটে চলা নানা ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করল জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সংগঠন এবিআরএসএম (ABRSM), ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP) এবং শ্রমিক সংগঠন বিএমএস (BMS)। সোমবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি, অশান্তি এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দ্রুত স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে কারচুপি ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ (Budhadeb Sau) এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
‘জিবি বৈঠক কীভাবে হল, তদন্ত হোক’
ABRSM-এর প্রতিনিধি অধ্যাপক ভাস্কর সর্দারের অভিযোগ, ১৯ অগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার সময় কীভাবে এবং কার উদ্যোগে জিবি বা সাধারণ সভা ডাকা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে ওই সভা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সেই দিন গভীর রাত পর্যন্ত অরবিন্দ ভবনে যে ভিড় জমা হয়েছিল, তারা কি আদৌ যাদবপুরের ছাত্র? বহিরাগতদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
ভাস্করের দাবি, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে উপাচার্যের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ঘটনাটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিশ্ববিদ্যালয়ে কি আবার অনামিকা কিংবা স্বপ্ননীলের মতো করুণ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা চলছে?” ক্যাম্পাসে কোনও পড়ুয়া যাতে হিংসা বা হামলার শিকার না হন, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আরও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার আবেদন জানান তিনি।
পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে কেন আপত্তি, প্রশ্ন ABRSM-এর
যাদবপুরের পরিবেশ নিয়ে সরাসরি কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন ভাস্কর। তাঁর দাবি, ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি হলে মদ, বিড়ি এবং গাঁজার মতো বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করা সম্ভব হবে। এই কারণেই কিছু গোষ্ঠী পুলিশ ফাঁড়ির বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ তাঁর।
পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন
পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে ABRSM। সংগঠনের বক্তব্য, ঠিক কতজন পড়ুয়ার লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা প্রকাশ করা উচিত। ও তাঁদের প্রশ্ন, কোনও নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচিকে সুবিধা করে দিতেই কি তড়িঘড়ি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল? একই সঙ্গে মোট কতজন পড়ুয়া পরীক্ষা বাতিলের আবেদন জানিয়েছিলেন, সেই তথ্য প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।
ফলক পুনর্স্থাপন নিয়েও উঠল প্রশ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙা ফলক পুনর্স্থাপনের সময় উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের পাশে সিপিএম নেতা পার্থপ্রতিম রায়ের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় সাংবাদিক বৈঠকে। ভাস্করের বক্তব্য, ওই উপস্থিতি ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে উনি ওখানে উপস্থিত। ২০২৫ সালে যখন ৩ নম্বর গেটের ফলক ভাঙা হয়েছিল, তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই আবেগ কোথায় লুকিয়ে ছিল?”
ভিডিও ফাঁস নিয়ে তদন্তের দাবি
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েও অভিযোগ করেছে সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের এমন ভিডিও বাইরে আসার ক্ষেত্রে প্রশাসন বা পুলিশের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, ফুটেজ ব্যবহার করে প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে।
অন্যদিকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বুদ্ধদেব সাউ বলেন, “সে দিন ১ ও ৪ নম্বর গেটে আমি গিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু কোনও গেট খুলে দেওয়ার নির্দেশ আমি দিইনি। আমাকে অযথা বলির পাঁঠা করা হচ্ছে।” ঘটনার প্রশাসনিক দিক খতিয়ে দেখে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
২৮ অগস্ট যাদবপুরে ‘পরিবর্তনের’ আশা
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ২৮ অগস্টের কর্মসূচি নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করা হয়। উপস্থিত নেতৃত্বের দাবি, ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ‘বন্দে মাতরম্’ গাইবেন। তাঁদের আশা, মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের পর দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন পরিবেশ তৈরি হবে এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগোবে।


