কলকাতা: কেওয়াইসি-র গেরোয় অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ! আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই কলকাতা হাই কোর্টে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়ল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলার শুনানিতে সোমবার ব্যাঙ্ককে সতর্ক করল আদালত। মামলার শুনানি শেষে অ্যাকাউন্ট ডি-ফ্রিজ করার বিষয়টি জানায় ব্যাঙ্ক।
মামলায় অভিষেকের (Abhishek Banerjee) আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্যের দাবি, কেওয়াইসি আপডেটের সময় তাঁর মক্কেলের কোনও ছবি নেওয়া হয়নি। অভিষেক কখনও কেওয়াইসি করতে অস্বীকার করেননি বলেও আদালতে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, কেওয়াইসি সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে নিয়ম মেনে নোটিস দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা যেতে পারে, কিন্তু সরাসরি অ্যাকাউন্ট ব্লক করা কেন হল? সেই প্রশ্নই ওঠে।
অভিষেকের (Abhishek Banerjee) আইনজীবী আরও জানান, ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের পদক্ষেপ না করা হয়, সে বিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা প্রয়োজন। পাল্টা ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়, অভিষেককে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়নি। তাঁকে হেনস্তা করার কোনও উদ্দেশ্যও ছিল না। ব্যাঙ্কের দাবি, এটি ছিল শুধুমাত্র একটি ‘টেম্পোরারি ব্লকিং’।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, কোনও গ্রাহকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার আগে তাঁকে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ না হলে তারপর অ্যাকাউন্ট ব্লক করা যেতে পারে। সরাসরি ব্লক করে দেওয়া কোনও সমাধান নয়। আদালতে ব্যাঙ্ক জানায়, অভিষেকের (Abhishek Banerjee) ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড ইতিমধ্যেই সক্রিয় করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর অ্যাকাউন্টও ডি-ফ্রিজ করা হয়েছে।
ব্যাঙ্কের এই বক্তব্যের পরই মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেয় হাই কোর্ট। অর্থাৎ, কেওয়াইসি নিয়ে শুরু হওয়া অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের বিতর্কে শেষ পর্যন্ত পরিষেবা ফিরে পেলেন অভিষেক। তবে এই মামলায় আদালতের বার্তা স্পষ্ট, গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে কোনও কঠোর পদক্ষেপের আগে নিয়ম মেনে তাঁকে জানানো জরুরি।


